আহসানুল আম্বিয়া শোভন : বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন তারেক রহমানের ১৩তম কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ মার্চ, সোমবার পূর্ব লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম মাহিদুর রাহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহিদুর রহমান বলেন, তারেক রহমান হচ্ছেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি । তিনি দেশের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে দেশের প্রতিটি প্রান্তরে বিচরণের মাধ্যমে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন। আর তাতেই ওয়ান ইলিভেনের ষড়যন্ত্রকারীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কারাবন্দী করে তার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালায় ।
এক এগার-এর ষড়যন্ত্রকারী ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের উদ্দেশ্য ছিলো তারেক রহমানকে হত্যা করা এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংসের মাধ্যমে জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার জন্যই বর্তমানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায় ভাবে নির্জন কারাগারে কারাবন্দী করে রেখেছে স্বৈরাচারী সরকার। তিনি বলেন, ওয়ান ইলিভেনের সময় থেকে শহীদ জিয়া ও বিএনপি পরিবারকে ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল তা আজও অব্যাহত আছে। দেশের সকল পেশা শ্রেণীর জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদী সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।
সভাপতির বক্তবে এম এ মালিক বলেন, সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৭ সালের ৭ মার্চ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসুরী তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা কোনো প্রকার নিয়ম -নীতির পরোয়া না করে, গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই পেশী শক্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালায়। ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে না পেরে ক্ষমতা তুলে দেয় হাসিনার হাতে। কিন্তু ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। স্বেরাচারী শেখ হাসিনা তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট জালিয়াতির করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। তিনি অনতিবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানের ওপর থেকে সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ সিলেটের কুলাউড়া থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সুলতান মনসুরকে মুনাফেক শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের সংসদে যোগ দেয়ার জন্য অকৃতজ্ঞ ও জাতীয় বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এবং সুলতান মনসুরকে যুক্তরাজ্যে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রতিরোধ করা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অবৈধ সরকার দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও দেশের সকল ব্যাংক ডাকাতি করে দেশে বিদেশে লবিস্ট ও এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে । কিন্তু জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক জনতা এই ষড়যন্ত্র কোনদিনই বাস্তবায়িত হতে দেবে না।
বক্তারা বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে। বাকস্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। এখনও মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তৃণমূলের বলিষ্ঠ সংগঠক তারেক রহমানকে স্তব্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু সেদিন বেশি দূরে নয়, রাজনীতির আকাশে সব কালো মেঘ দূর করে তারেক রহমান ফিরে যাবেন জনতার মাঝে। কারণ তার হাতেই নিরাপদ আগামি দিনের বাংলাদেশ।
আজকের এই দিনে সকলকে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে। দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করতে দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। আজ সমগ্র দেশবাসীকে গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের জন্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথ নিতে হবে ।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সাবেক সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, তাজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান, কামাল উদ্দিন, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম, আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আহমেদ, খসরুজ্জামান খসরু, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়রনেতা মিসবাহুজ্জামান সোহেল, আসাদুজ্জামান আহমেদ, লন্ডন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবেদ রাজা, যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমেদ শাহিন, জাসাসের সভাপতি এমাদুর রহমান এমাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, জাসাসের সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক লিটন, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত বাদশা, যুক্তরাজ্য যুবদলের প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান হেভেন, সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক সেলিম আহমেদ, সাবেক সহ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সরফরাজ আহমেদ সরফু, সাবেক সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ গাজী, সাউথ ইস্ট বিএনপির সভাপতি সালেহ আহমেদ জিলান, নিউহাম বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, লন্ডন নর্থ ওয়েস্ট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, লন্ডন নর্থ ওয়েস্ট বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সহিদ, লন্ডন মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা দুদু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক মাসুক আহমেদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, আশারাফুল আলম, গোলজার আহমেদ, আমিন মিয়া, এনামুল করিম, মোঃ এমদাদুল হক, সেন্ট আলবান বিএনপি নেতা সায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ইস্ট লন্ডন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ জামাল উদ্দিন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সাইফুল আলম, সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মসুদ আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী, যুবদলের সহসভাপতি দেওয়ান আব্দুল বাছিত, আব্দুল কাদির জিলানী, মো: তোফাজ্জল হোসাইন, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ নাসের আহমদ, ছাত্রনেতা বি.এম. এম. তামজীদ, আক্তার আহমেদ শাহিন, সানুর মিয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক কাজী তাজ উদ্দিন আহমেদ, সিরাজুল মামুন, মো আল আমিন, মোঃ সেলিম রেজা, মোঃ লায়েক আহমেদ, মো: শরীফ রানা, সাব্বির হোসেন, মোঃ ফয়েজ উল্লাহ, সৈয়দ মামুন আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম শিমু, জিয়াউর রহমান, শেখ সাদেক আহমেদ, সাংবাদিক আহসানুল আম্বিয়া শোভন, মোঃ মফিজুর রহমান, জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ আহমেদ, কবির আহমেদ বাহার, মোঃ সেলিম হোসেন, সৈয়দ আবু মুসা নোমান, ওমর ফারুক, মোঃ সারোয়ার, হোসেন, মোঃ রুহেল মিয়া প্রমুখ।















