লন্ডনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের ১৬ জন ড্রাগ ডিলারের ৪৯ বছর জেল দন্ড

চলতি সপ্তাহেই আরেকটি গ্রুপের শাস্তি ঘোষনা হবে

5231

ওয়ানবাংলানিউজ: টাওয়ার হ্যামলেটসের ১৬ জন ড্রাগ ডিলারের সর্বমোট ৪৯ বছর জেল দন্ড হয়েছে। ১৭ আগষ্ট, শুক্রবার স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্টে তাদেরকে এই শাস্তি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া একই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আরো ১৪ জনের শাস্তি এ সপ্তাহের শেষ দিকে ঘোষনা করা হবে। এই ১৪ জন নিজেদের দোষ শিকার করে নেয়ায় তাদের শাস্তির তারিখ আলাদা নির্ধারন করা হয়েছে। এর বাইরে আরো কয়েকজনের মামলা তদন্তনাধীন রয়েছে। একই ঘটনায় আগে আরো ৪ জনের শাস্তি হয়েছিলো।
দীর্ঘ ৪ মাসের অপারেশন শেষে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছিলো। অপারেশন কনটিনিউআম নামের এই অভিযানটি পুলিশ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এবং স্থানীয় হাউজিং এসোসিয়েশনগুলোর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। ৩০০ জনেরও বেশী অফিসার এই অপারেশনে নিয়োজিত ছিলেন। অপারেশনে চলাকালে পুলিশ মোট ৫০টি ঠিকানায় তল্লাশী চালিয়ে ৬০ হাজার পাউন্ড ক্যাশ, ক্লাস এ ড্রাগস এবং ৪টি শর্ট গান জব্দ করে।
পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে থেকে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে ড্রাগ ডিলিংয়ের অভিযোগে চার্জ আনে। এর মধ্যে ৩৫ জন আদালতে দোষ শিকার করেন। এছাড়া আরো ১০ জনকে একই অভিযোগে গ্রেফতার করে বেইলে মুক্তি দেয়া হয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস ১৭ আগষ্ট, স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্টে ড্রাগ ডিলারদের শাস্তি এবং অপারেশনটি সফল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ড্রাগ এবং এসংক্রান্ত অসামাজিক কার্যকলাপ আমাদের বাসিন্দাদের কাছে একটি বিরাট উদ্বেগের বিষয়। এই উদ্বেগ দমনে পুলিশের সাথে আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে। মেয়র বলেন, এই শাস্তি ড্রাগ ডিলারদের জন্য একটি শক্তিশালী ম্যাসেজ। আমাদের বারায় যারাই এই কাজে নিয়েজিত থাকবেন তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। এছাড়া ড্রাগ ডিলিংয়ের ভিকটিমদেরও আমরা সহযোগিতা করে যাবো।
আমাদের এখানে বেশকটি ভালো সার্ভিস রয়েছে এবং তারা যাতে সুস্থ জীবনে ফিরে আসেন এজন্য আমরা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্চিছ। কেবিনেট মে“ার ফর কমিউনিটি সেইফটি কাউন্সিলার আসমা বেগম বলেন, ড্রাগ ডিলিং আমাদের কমিউনিটির একটি রুগ বিশেষ। এই রুগ দূর করতে কাউন্সিল এবং পুলিশ সর্বোচ্চচ প্রায়োরিটি দিয়ে আসছে। টাওয়ার হ্যামলেটসের ক্রাইম, গ্যাং এন্ড ড্রাগ বিষয়ক কর্মকর্তা ডিটেক্টটিভ চীফ ইন্সপেক্টর মাইক হ্যামার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাস্তা থেকে এসব ড্রাগ ডিলারদের উচ্চেছদের ঘটনা টাওয়ার হ্যামলেটস তথা লন্ডনের জন্য একটি সুসংবাদ। শাস্তি প্রাপ্তরা কোকেইন, হিরোইন সরবরাহে জড়িত ছিলো।
আশা করছি তাদের গ্রেফতার এবং শাস্তির কারনে এই সাপ্লাই কাজ বন্ধ হবে তথা সমাজে এর একটি দীর্ঘ মেয়াদী ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তিনি বলেন, আমরা এখানেই থেমে যাইনি। আমাদের অপারেশন অব্যাহত আছে। অচিরেই আমরা বাসিন্দাদের আরো সুখবর দিতে পারবো। আমরা আরেকটি বড় গ্রুপের শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছি।
১৭ আগষ্ট শুক্রবার স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্টে যে ১৬ জন ড্রাগ ডিলারের জেল হয়েছে তারা হলেন, হাবিবুর রহমান (২২) সোয়াটন রোড, রাজা মিয়া (২৩) ট্রাফালগার গার্ডেন, জামিল হোসাইন (২৪) শ্যাডওয়েল গার্ডেন, ওলিউর রহমান (২৩) চ্যাপম্যান স্ট্রীট, রাকিব উদ্দিন (১৯) টার্লিং স্ট্রীট, সোলায়মান রাবিধ্ব (১৮) হোবার টাওয়ার, আবু তাহের সিদ্দিকী (২৪) গ্লাসওয়ার্থ এভিনিউ, রুহেল আহমদ (৩১) কমোডর স্ট্রীট, ইমতিয়াজ ইসলাম (২১) বেকেলস স্ট্রীট, মোহাম্মদ আহমদ (২৫) ব্যাকন স্ট্রীট, রাশিক উদ্দিন (২৬) হ্যাজেলডেন রোড, ইলফোর্ড, এনামুর রহমান (২২) অরডেল রোড, মোহাম্মদ মহিবুর রহমান (২২) সেন্টপলস ওয়ে, আমমেদুর রহমান (২১) কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই, আব্দুল আজিজ (৩৯) মিয়া টেরেস এবং আকবর হোসাইন (২৪) হ্যালী স্ট্রিট।