কেন্টে ১৩ সপ্তাহের শিশুকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত প্রেমিক

13

যুক্তরাজ্যের কেন্টে নিজের প্রেমিকার ১৩ সপ্তাহ বয়সী শিশুকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। শিশুটির নাম হান্টার হজেস। বৃহস্পতিবার ক্যান্টারবেরি ক্রাউন কোর্ট তাঁকে হত্যা এবং গুরুতর শারীরিক আঘাতের দুটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত করেন।

অভিযুক্ত টায়লা ওয়ার্মবি রামসগেটের প্রেস্টেজ অ্যাভিনিউয়ের বাসিন্দা। তিনি শিশুটির মা শ্যানন হজেসের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন, তবে হান্টারের জৈবিক বাবা নন।

আদালতে বলা হয়, শিশুটির মা ঘুমিয়ে থাকার সময় রাতে হান্টারের দেখাশোনা করছিলেন ওয়ার্মবি। ২০২২ সালের ১৫ জুলাই সকালে শিশুটির মাথা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করতে থাকে।

শিশুটির মা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, তাঁর ছেলের মাথা ফুলে গেছে এবং স্পর্শ করলেই সে চিৎকার করছে।

মাথায় গুরুতর আঘাতের প্রমাণ

হান্টারকে প্রথমে মারগেটের কুইন এলিজাবেথ দ্য কুইন মাদার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে আকাশপথে লন্ডনের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেদিন বিকেলে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

আদালতে ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডা. নাথানিয়েল ক্যারি বলেন, শিশুটির মাথায় অত্যন্ত গুরুতর আঘাত ছিল। এ ধরনের আঘাত দ্রুতগতির মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বা অনেক উঁচু থেকে পড়ে যাওয়ার মতো ঘটনার সঙ্গে তুলনীয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুটিকে মেঝেতে অথবা শক্ত কোনো উল্লম্ব পৃষ্ঠে আছড়ে ফেলার মতো ঘটনায় এ ধরনের আঘাত হতে পারে।

আদালতে শিশুরোগ ও স্নায়ুশল্য বিশেষজ্ঞ আমেদেও ক্যালিস্তো বলেন, শিশুটির শরীরে এমন গুরুতর আঘাত ছিল যে, প্রায় সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

মৃত্যুর আগে অসুস্থতার লক্ষণ

আদালতে আরও জানানো হয়, মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে হান্টারকে একাধিকবার মারগেটের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তার বারবার বমি হওয়া, ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেওয়া এবং ঘন ঘন কান্নার মতো উপসর্গ ছিল।

বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাফা আল-সাররাজ আদালতকে জানান, শিশুটির মস্তিষ্কে আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, মৃত্যুর আগের এক মাসের মধ্যে শিশুটিকে ঝাঁকানোর মতো ঘটনার কারণে এই আঘাত হয়ে থাকতে পারে। তবে ওয়ার্মবি শিশুটিকে ঝাঁকানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ওয়ার্মবি দাবি করেছিলেন, ভোর ৪টার দিকে শিশুটিকে ওষুধ ও দুধ খাওয়ানোর জন্য ঘুম থেকে উঠেছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিশুটির মাথার পেছনের অংশ ফুলে যাওয়া এবং তার কান্না শুনে তিনি জেগে ওঠেন বলে জানান।

আদালতে আরও উঠে আসে, শিশুটির মা অ্যাম্বুলেন্স ডাকার প্রায় ১০ মিনিট আগে ওয়ার্মবি একটি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে গিয়েছিলেন।

কেন্ট পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যাডাম মার্শাল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সন্তান হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও হান্টারের পরিবারের সদস্যরা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

অভিযুক্তের সাজা পরবর্তী সময়ে ক্যান্টারবেরি ক্রাউন কোর্টে ঘোষণা করা হবে।