সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আসছে কড়া নি*ষেধাজ্ঞা। আগামী মার্চ মাস থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়ম বাস্তবায়নে বয়স যাচাইয়ের চারটি কার্যকর পদ্ধতি প্রস্তাব করেছে দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম। নতুন এই নিয়মের আওতায় ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো বড় দশটি প্ল্যাটফর্মে কিশোরদের প্রবেশ নি*ষিদ্ধ করা হবে। এমনকি বড়দেরও অপ্রাপ্তবয়স্ক নন তা প্রমাণ করতে ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র কিংবা ব্যাংকের তথ্যের মতো বিশেষ ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হতে পারে। প*র্ন সাইটে বয়স প্রমাণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই নির্দেশিকা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠিয়েছে অফকম।
অফকমের সুপারিশে বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চারটি পদ্ধতিকে সবচেয়ে কার্যকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছবিযুক্ত পরিচয়পত্রের সাথে সরাসরি ছবি মেলানো, ব্যাংকের তথ্য যাচাই, মুখের গড়ন দেখে বয়স নির্ধারণ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল আইডি সেবা। যুক্তরাজ্যে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্রেডিট কার্ড বা পূর্ণাঙ্গ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় এই পদ্ধতিগুলো বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে বয়স যাচাইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তারা লক্ষ্য করেছে যে কেবল একটি নির্দিষ্ট নিয়ম চাপিয়ে দিলে তা কাজ করে না। অফকমের প্রধান নির্বাহী মেলানি ডয়েস জানান, ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে নিয়ম মানা হবে সেই উপায় সামাজিক মাধ্যমগুলোকেই বের করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিশুরা যেন সামাজিক মাধ্যমের তীব্র আসক্তি ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেটিই এই উদ্যোগের আসল উদ্দেশ্য।
এদিকে মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, এই যাচাই প্রক্রিয়া অ্যাপ স্টোর বা ডিভাইস পর্যায়েই সম্পন্ন করা উচিত, যাতে ব্যবহারকারীদের বারবার প্রতিটি অ্যাপে তথ্য না দিতে হয়। মেটা জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যে অফকমের প্রস্তাবিত কিছু নিয়ম মেনে চলছে, তবে অ্যাপল ও গুগলের মতো অপারেটিং সিস্টেম পরিচালনাকারীদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। যদিও অফকম স্পষ্ট করেছে যে ডিভাইস পর্যায়ে যাচাই হলেও সামাজিক মাধ্যমগুলো তাদের নিজস্ব দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবে না।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় একই ধরনের নিয়ম চালুর পরও শিশুরা বিকল্প উপায়ে তা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হওয়ায় যুক্তরাজ্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায়। শিশু অধিকার বিষয়ক সংগঠন এনএসপিসিসির কর্মকর্তা রানি গোভেন্দার এবং মলি রোজ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি বারোজ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বাস্তবায়নের ত্রুটি নিয়ে সতর্ক করেছেন। অন্যদিকে ব্রিটিশ টেলিকমের কর্মকর্তা জনি ব্লান্ট পরামর্শ দিয়েছেন, মার্চ মাসে নিয়ম কার্যকরের আগেই পরিবারগুলোর উচিত সন্তানদের ডিজিটাল জীবনের পরিবর্তনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা।
#যুক্তরাজ্যসংবাদ #সোশ্যালমিডিয়া #অফকম #aknews #onebanglanews















