লন্ডনের জরাজীর্ণ সেন্ট মেরি হাসপাতাল নতুন করে গড়তে জনগণের মতামত চাইছে কর্তৃপক্ষ

65

সাইফ হাসান: লন্ডনের প্যাডিংটনে অবস্থিত ঐতিহাসিক সেন্ট মেরি হাসপাতালের প্রধান আউটডোর ভবনটি নিরাপত্তার কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন এই পুরো এলাকাটি নতুন করে সাজানোর জন্য সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও মতামত আহ্বান করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে যা রোগী ও কর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা চাচ্ছেন সবার অংশগ্রহণে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি নতুন হাসপাতাল তৈরি করতে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথ কেয়ার এনএইচএস ট্রাস্ট জানিয়েছে যে সেন্ট মেরি হাসপাতালের মূল আউটপুট ভবনটি আগামী মার্চের শেষ দিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভবনটির ছাদ ও কাঠামোতে ফাটল ধরাসহ নানা অ*পরাধমূলক অবহেলার মতো জরাজীর্ণ দশা দেখা দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টের পুনর্নির্মাণ পরিচালক ম্যাথিউ টুলি জানিয়েছেন যে একটি নতুন ও নিরাপদ হাসপাতাল নির্মাণের যাত্রায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা চান স্থানীয় বাসিন্দা এবং রোগীরা যেন এই মহাপরিকল্পনার অংশ হয়ে তাদের মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।

১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের বেশ কিছু অংশ বর্তমানে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। গত বছর এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে হাসপাতালের পাইপগুলোতে জং ধরেছে এবং ছাদ দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এতটাই বেড়ে গেছে যে এখন এটি মেরামত করার চেয়ে নতুন করে নির্মাণ করাই বেশি লাভজনক। তবে সরকারি পরিকল্পনার দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজ শুরু হতে অনেক দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন পরিকল্পনায় হাসপাতালটিকে আরও বড় এবং বহুতল ভবন হিসেবে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যাতে অল্প জায়গায় বেশি রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। ট্রাস্ট আশা করছে ২০২৭ সালের মধ্যে তারা পরিকল্পনার চূড়ান্ত আবেদন জমা দিতে পারবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি নতুন আধুনিক হাসপাতাল গড়ে তুলবে। অতিরিক্ত জমিগুলো বিজ্ঞান ও গবেষণা কাজের জন্য ব্যবহার করে হাসপাতালের আয়ের নতুন উৎস তৈরির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে তাদের মতামত জানাতে পারবেন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সরাসরি উপস্থিত হয়েও সাধারণ মানুষ তাদের পরামর্শ দিতে পারবেন। জনগণের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই এই প্রাচীন হাসপাতালের ভবিষ্যৎ নকশা এবং সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা হবে বলে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

#aknews #onebanglanews #stmaryshospital #londonhealth #nhs #hospitalredevelopment