সাইফ হাসান: রাজধানীতে উদীচী ও ছায়ানটে হা*মলা ও অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মশালমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদীচী কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উদীচী নেতারা অভিযোগ করেছেন যে হা*মলা ও আগুনের হুমকি দেওয়া হলেও সরকার এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর এই ধরণের অপ*রাধকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে তারা উল্লেখ করেন। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বক্তব্য রাখেন। তিনি অভিযোগ করেন যে কতিপয় ছাত্র ও যুবনেতা প্রকাশ্যে উদীচী ও গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণের হুমকি দিলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন সরকার এখনো এসব উসকানিমূলক ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনছে না।
সমাবেশে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে ভাঙচুর এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। মাহমুদ সেলিম বলেন যে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামবে। তিনি উদীচীর দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে বোমা হামলা চালিয়েও অতীতে এই সংগঠনকে স্তব্ধ করা যায়নি।
সংহতি জানিয়ে বক্তারা বলেন যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে যে স্বাধীনতার আশা জাগিয়েছিল তা বর্তমানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাজার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ওপর হামলাকে তারা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন একটি নির্দিষ্ট সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতির পক্ষের শক্তিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবাদ সভা শেষে উদীচীর নেতাকর্মীরা একটি মশালমিছিল বের করেন যা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন এবং হকার্স ইউনিয়নের নেতারাও অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
#উদীচী #প্রতিবাদ #নিউজ #সংস্কৃতি #বাংলাদেশ















