লন্ডনে ফিলিস্তিন অ্যাকশন নিষেধাজ্ঞা অমান্যে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার প্রায় ৩০০ জন

157

সাইফ হাসান: লন্ডনে ফিলিস্তিন অ্যাকশন নিষিদ্ধ ঘোষণার বিরুদ্ধে সংসদ চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পুলিশকে আক্রমণ, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে স্লোগান ও সহিংসতা। আয়োজকরা বলছেন পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।

শনিবার দুপুর থেকে পার্লামেন্ট স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাদের হাতে লেখা ছিল—“আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি ফিলিস্তিন অ্যাকশনকে সমর্থন করি।” সন্ধ্যার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ভিড় ঠেলে আটককৃতদের ভ্যানগাড়িতে তোলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এক বিক্ষোভকারীর মাথায় রক্ত ঝরতে দেখা যায়, আবার দুজন প্রবীণকে হুইলচেয়ার ও স্কুটারসহ পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়।

ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস নামের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ বয়স্কসহ বহু শান্তিপূর্ণ কর্মীকে মারধর করেছে। তারা দাবি করে, গৃহীত নিষেধাজ্ঞা অবাস্তব এবং জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তারা আহ্বান জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার জন্য।

প্রবীণ কর্মী জুডিথ গ্র্যাডওয়েল (৮০) বলেছেন, সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা একেবারেই হাস্যকর। তিনি যোগ করেন, “ইরাক যুদ্ধের পর ভেবেছিলাম সরকার জনগণের কণ্ঠস্বর শুনবে, কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটছে।” অপর এক অংশগ্রহণকারী স্টিভ মাস্টার্স, যিনি আগে রয়্যাল এয়ার ফোর্সে কাজ করেছেন, বলেন—“সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়তো অস্বস্তিকর, তবে এটাকে সন্ত্রাসবাদ বলা অন্যায়।”

এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ব্যাপক গ্রেপ্তারকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির এক পরিচালক বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়ানো মানুষকে সন্ত্রাসী বলা অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা যায় কেবল তখনই যখন তা সহিংসতা বা ঘৃণা ছড়ায়, আর এই প্রতিবাদ তার কোনো শর্তই পূরণ করে না।