বিনিয়োগ, সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।
এই সফরটি আসে ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের টাওয়ার হ্যামলেটসে সরকারি প্রতিনিধিদলসহ সফরের ধারাবাহিকতায়, যা দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার এইচ.ই. দাতো’ ইন্দেরা ড. আজফার মোহাম্মদ মুস্তাফারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে স্বাগত জানান। প্রতিনিধিদলকে বরোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করানো হয় এবং তারা টাউন হলের ঐতিহাসিক ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।
সফরকালে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আলোচনায় যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগের সম্ভাবনা, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগগুলো গুরুত্ব পায়।
টাওয়ার হ্যামলেটস যুক্তরাজ্যের অন্যতম অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনশীল বরো। এখানেই অবস্থিত ক্যানারি ওয়ার্ফ ও অল্ডগেট ইস্ট, যা লন্ডনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবসা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। বৈঠকে কাউন্সিল কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটসের আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বৈশ্বিক ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে বরোটির শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরেন।
সম্প্রতি ক্যানারি ওয়ার্ফের জন্য একটি বড় সাফল্য এসেছে যখন জেপি মরগান চেজ তাদের নতুন ইউরোপীয় সদর দপ্তর টাওয়ার হ্যামলেটসে নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই প্রকল্প আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এবং হাজারো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আলোচনায় যুক্তরাজ্যে মালয়েশিয়ার উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশীয় কনসোর্টিয়ামের ঐতিহাসিক ব্যাটারসি পাওয়ার স্টেশন বিনিয়োগ এবং ওই এলাকা ঘিরে চলমান বৃহৎ পুনর্জাগরণ প্রকল্প, যা দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
এই সফর মালয়েশীয় বাসিন্দাদের জন্য সহায়তা, কমিউনিটি উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিনিয়োগের সুযোগ এবং মালয়েশিয়া ও টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় কমিউনিটির মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি করে।
নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “ক্যানারি ওয়ার্ফ থেকে শুরু করে আমাদের প্রাণবন্ত কমিউনিটিগুলো পর্যন্ত – টাওয়ার হ্যামলেটস এমন একটি বরো যা আন্তর্জাতিক সংযোগ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমি এইচ.ই. দাতো’ ইন্দেরা ড. আজফার মোহাম্মদ মুস্তাফারের নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার এই প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা উভয় কমিউনিটির জন্য উপকারী সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার নতুন সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে এবং এমন সংযোগ গড়ে তুলতে আমরা আগ্রহী, যা উভয় দেশের জনগণ, কমিউনিটি ও অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।”
মেয়র আরও ঘোষণা দেন যে আগামী বছরের শুরুতে কাউন্সিলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ইস্ট এশিয়ান হেরিটেজ মান্থ আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে বরোর বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি ও উদযাপন করা হবে এবং স্থানীয় মালয়েশীয় কমিউনিটিসহ পূর্ব এশীয় জনগোষ্ঠীর অবদানকে তুলে ধরা হবে।
যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন পাউন্ড। বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার এইচ.ই. দাতো’ ইন্দেরা ড. আজফার মোহাম্মদ মুস্তাফার বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে মেয়র লুৎফুর রহমান, শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং ক্যাবিনেট সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি আনন্দিত। এই সফর মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী, গভীর এবং ইতিবাচক সম্পর্কের প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো প্রকৃত অর্থে স্থানীয় কমিউনিটির পর্যায়েই সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়। টাওয়ার হ্যামলেটস একটি প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময় এবং গতিশীল বরো। কমিউনিটি উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় উদ্যোগের মতো ক্ষেত্রে নতুন ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আমরা বিদ্যমান শক্তিশালী সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে আমরা মালয়েশীয় প্রবাসী জনগোষ্ঠী এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য অর্থবহ সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি।”
এই সফর টাওয়ার হ্যামলেটস ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।















