লন্ডনের হেফাজতে শিশুদের পুনরায় অপরাধে জড়ানো ৯০% কমিয়েছে যুবকর্মীরা

210

সাইফ হাসান: লন্ডনে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার শিশুদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে একটি প্রকল্প অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছে। লন্ডনের ভায়োলেন্স রিডাকশন ইউনিট (ভিআরইউ) জানায়, হেফাজত কেন্দ্রে যুবকর্মীদের হস্তক্ষেপে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৯০% এক বছরের মধ্যে পুনরায় অপরাধে জড়ায়নি। এই প্রকল্প সহিংসতা কমাতে ‘শিক্ষণীয় মুহূর্ত’ কাজে লাগাচ্ছে।

লন্ডনের ভায়োলেন্স রিডাকশন ইউনিট (ভিআরইউ) ২০১৯ সাল থেকে কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে পুলিশ হেফাজত কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ যুবকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর লন্ডনের ব্যস্ততম পুলিশ স্টেশনগুলোতে যুবকর্মীদের সহায়তায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৯০% পরবর্তী ১২ মাসে সহিংস অপরাধে জড়ায়নি। ভিআরইউ’র পরিচালক লিব পেক বলেন, “প্রতিরোধ কাজ করে এবং এর জন্য আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন।” তিনি জানান, বছরে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের এই প্রকল্প অপরাধের খরচের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লন্ডনে যুব সহিংসতার বার্ষিক খরচ ১ বিলিয়ন পাউন্ড, যার মধ্যে পুলিশ, আদালত, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সেবা অন্তর্ভুক্ত। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সহিংসতার শিকার যুবকদের জন্যও সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তারা প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে। এই প্রকল্পে ৮০০ শিশুকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছুরি দিয়ে আঘাত বা সহিংস ঘটনার পর হাসপাতালে আসা তিন-চতুর্থাংশ যুবক যুবকর্মীদের হস্তক্ষেপে ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হয়েছে।

যুবকর্মী মাইকেল গসলিং বলেন, “হেফাজতে থাকা শিশুদের জন্য পরিস্থিতি ভীতিকর হতে পারে। আমি তাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করি এবং বলি, আমি তাদের বিচার করতে আসিনি।” তিনি আরও বলেন, “আমি পুলিশ কর্মকর্তার পোশাক পরি না, যাতে তারা আমাকে আলাদাভাবে দেখে।” তিনি জানান, কিছু শিশু দারিদ্র্য বা পরিবেশের কারণে অপরাধে জড়ায়, আবার কেউ কেউ জুতা কেনা বা ‘সুযোগের খেলার মাঠে’ অংশ নিতে সহিংসতার পথ বেছে নেয়। তিনি বলেন, “কিছু বড় গ্যাং সদস্য দুর্বল শিশুদের নিয়োগ করে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি আস্থার ঘাটতি অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ক্ষতি করছে। মাত্র ৪৬% লন্ডনবাসী মনে করেন পুলিশ তাদের এলাকায় ভালো কাজ করে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় ১০% কম। একজন যুবক বলেন, “আমি অপরাধের কথা পুলিশকে জানাতে চাইনি, কারণ জানতাম না তারা আমাকে ভুক্তভোগী না অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করবে।” পেক বলেন, “পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক সময় সমস্যাজনক, এবং আমরা এর পরিণাম দেখি।”

ভিআরইউ স্কুল থেকে বহিষ্কার কমাতেও সাফল্য দেখিয়েছে, কারণ শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুরা সহিংসতায় বেশি জড়ায়। ২০১৯ সাল থেকে লন্ডনের হত্যার হার কমেছে, এবং এটি এখন প্যারিস, টরন্টো, ম্যানচেস্টার এবং বার্লিনের তুলনায় কম, তবে রোম এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের তুলনায় বেশি। তবে, দারিদ্র্য, বঞ্চনা এবং মাদক সহিংসতার মূল কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian