লন্ডন ও বার্মিংহামে মুসল্লির ওপর হামলার রায়

195

ওয়ানবাংলানিউজ: নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বারমিংহাম ও লন্ডনে পৃথক ঘটনায় দুই বয়স্ক মুসল্লির গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত মুহাম্মদ আবকারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়েছেন আদালত। আক্রান্ত দুই মুসল্লি হলেন ৭০ বছর বয়সী বারমিংহামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রায়াজ এবং ৮২ বছর বয়স্ক লন্ডনের বাসিন্দা হাশি ওডোয়া।

গত বছরের ১৭ মার্চ বারমিংহামের এজবাস্তনের ডাডলি রোড মসজিদে ঈশার নামাজ শেষে বের হয়ে ঘরের দিকে যেতে থাকেন মোহাম্মদ রায়াজ। ভিডিওতে নীল রঙের তীর চিহ্ন দেখানো হয়েছে মোহাম্মদ রায়াজ এর ওপর। এসময় তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে মুহাম্মদ আবকার। মোহাম্মদ রায়াজ এর ঘরের কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে কথা বলা শুরু করে মুহাম্মদ আবকার।

এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে ঝগড়া বেঁধে যায়। এসময় আচমকা মোহাম্মদ রায়াজ এর ওপর পেট্রল ছিটিয়ে আগুণ ধরিয়ে দেয় আবকার।আগুণ নিভে যেতে দেখে আবকার দ্বিতীয়বার পেট্রল ছিটিয়ে দিয়ে আগুণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদ রায়াজ এর দেহের বিভিন্ন স্থান দগ্ধ হয়ে যায়। তাঁকে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয়। সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনও শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি মোহাম্মদ রায়াজ।

২০১৭ সালে সুদান থেকে ব্রিটেনে এসে এসাইলাম আবেদন করেন মুহাম্মদ আবকার। এবং ২০১৯ সালে তাঁর আবেদন মঞ্জুর হয়। মারসিসাইডের একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত মানসিক হাসপাতাল থেকে তিনি আদালতের শুনানিতে অংশ নেন ভিডিও লিংকে।

বারমিংহামে হামলা করার তিন সপ্তাহ আগে লন্ডনের ইলিং এলাকায় একই ধরনের আরেকটি হামলা চালান মুহাম্মদ আবকার। মসজিদে নামাজের পর তাঁর হামলার শিকার হন ৮২ বছর বয়স্ক হাশি ওডোয়া। তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে হাশি ওডোয়া তাঁর শরীর থেকে কাপড় খুলে ফেলেন।

ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হননি।ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে নীল টাই পরিহিত ফরেনসিক সায়কায়াট্রিসট ডক্টর রস মারভিস। তিনি আদালতকে বলেন, মুহাম্মদ আবকার প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এবং তিনী বিশ্বাস করতেন বেশ কয়েকজন লোক তাঁকে যাদুমন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে। দুই মুসল্লি তাদেরই দু’জন।
বারমিংহাম ক্রাউন কোর্টে অধিকাংশ জুরি গত নভেম্বর মাসে মুহাম্মদ আবকারকে দুটি হত্যা চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। বুধবার আদালতের বিচারক রায় দেন, মুহাম্মদ আবকা নিরাপত্তাবেষ্টিত মানসিক হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাধীন থাকবেন।

মোহাম্মদ রায়াজ এর ছেলে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, লন্ডনে প্রথম ঘটনার পরপরই মুহাম্মদ আবকার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাঁর পিতার ওপর হামলা হয়তো প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। দুই ঘটনার ভিকটিম ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে পুলিস।