ওয়ানবাংলানিউজ: কেথেরিন বারবলসিং নিজেকে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে কড়া হেড টিচার হিসেবে দাবি করেন। লন্ডনের ব্রেনট কাউন্সিলের ওয়েম্বলি এলাকায় অবস্থিত মেকেইলা কমিউনিটি স্কুলের হেড টিচার তিনি। তাঁর স্কুলে শিক্ষার্থীরা করিডোরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেনা; লাঞ্চ টাইমেও চার জনের বেশী শিক্ষার্থী এক জায়গায় মিলিত হতে পারেনা। এক বছর আগে এই স্কুলের ২০ জনের বেশী শিক্ষার্থী মিলে স্কুলের উঠানে নামাজ আদায় করে। এর পরেই স্কুলের সীমানায় ধর্মীয় উপাসনা নিষিদ্ধ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের এই সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়। মঙ্গলবার হাইকোর্ট রায় দিয়ে জানিয়ে দেন, স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী উপাসনা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। আদালতের রায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ।
বিবিসি’র প্রতিবেদক এই স্কুলের দুই মুসলিম শিক্ষার্থী ইয়াসমিন ও লায়লার সাথে কথা বলেন। তাদের ইচ্ছায় তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখেছেন বিবিসির প্রতিবেদক।
আদালতের রায়ে এক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কেথেরিন বারবলসিং বলেন, আদালতের এই রায় সকল স্কুলের জন্য এক বিজয়। স্কুলের অর্ধেক সংখ্যক শিক্ষার্থী মুসলিম- এই তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারিবারিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ স্কুলের পরিবেশকে আনন্দদায়ক করে তোলে। মেকেইলা কমিউনিটি স্কুলের গভর্নিং বডির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন সুয়েলা ব্রাভারম্যান। আদালতের রায়ের আগে বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই হোম সেক্রেটারি হেড টিচার কেথেরিন বারবলসিং এর অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান।
মেকেইলা কমিউনিটি স্কুলের ফলাফল অসাধারণ। এই স্কুল ধর্মীয় স্কুল নয়। তবে এই স্কুলের ৭শ শিক্ষার্থীর অর্ধেকই মুসলিম। স্কুলে নামাজ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে যে মুসলিম পরিবারটি আদালতে গিয়েছিল, আদালতের নির্দেশে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তবে যে মেয়েটির মা আদালতে গিয়েছিলেন তিনি আদালতের রায়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী নামাজের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
অনেক অফিস ও কর্মস্থলের মতো কিছু কিছু স্কুল লাঞ্চ টাইমে উপাসনা করার অনুমতি দেয়। আদালতের রায়ের প্রভাব কী হতে পারে- তা নিয়ে অনেকে শঙ্কিত।
মেকেইলা কমিউনিটি স্কুলের বিষয়ে উচ্চ আদালতের এই রায়ের পর আরও অনেক স্কুল স্কুলে উপাসনা সম্পর্কিত তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।














