সিলেটে দুই দফায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঈদুল আজহার ছুটিতে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঈদে পর্যটকদের বরণ করতে কেন্দ্রগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে।
মূলত বর্ষাকাল সিলেটে পর্যটনের ভরা মৌসুম। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পর্যটন খাতের অব্যবস্থাপনার কারণে ঈদুল ফিতরের পর থেকে সিলেটে পর্যটকদের উপস্থিতি কমে যায়।
পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যার কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাওয়া–আসার পথগুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোও ঈদে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত।

গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে নৌকা চালান সোনা মিয়া। গত দুই মাস রাতারগুল ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য। সোনা মিয়া বলেন, প্রথম বন্যায় এলাকার বাসিন্দাদের তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জুন মাসের দ্বিতীয় দফার বন্যায় অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ঈদের ছুটিতে বেশি পর্যটক উপস্থিত হবেন, এমনটাই আশা করছেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং। তিনি বলেন, উপজেলার সড়কগুলোতে এখন আর পানি নেই। সিলেট থেকে সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্রে যেতে পর্যটকদের আলাদা ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
সিলেটে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারিও থাকবে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর এলাকায় ইউএনও ও কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোন নম্বর দিয়ে ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। কেউ হয়রানির শিকার কিংবা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
ইউএনও লুসিকান্ত হাজং বলেন, ‘আমি নিজেও পর্যটনকেন্দ্রে অবস্থান করব। আশা করছি ঈদের ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকদের উপস্থিতি থাকবে।’
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় ট্যুরিস্ট পুলিশও কাজ করবে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের জাফলং জোনের পরিদর্শক রতন শেখ। গোয়াইনঘাটের ইউএনও তাহমিলুর রহমান বলেন, উপজেলার জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি পর্যটনকেন্দ্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পর্যটকদের অপেক্ষায় আছেন। এসব কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা–পুলিশও কাজ করবে।

এদিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে হোটেল, রেস্তোরাঁ ব্যবসাও চাঙা হবে। নগরের জিন্দাবাজার এলাকার হোটেল গোল্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক মলয় দত্ত বলেন, ঈদের দিন পর্যন্ত পর্যটকদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এরপরও তিনি আশাবাদী ঈদের ছুটিতে পর্যটকেরা সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে আসবেন।
সূত্র: প্রথম আলো















