শেফিল্ড থেকে আহমদ হোসেন হেলাল: শেফিল্ডকে বলা হয় সবুজের শহর । আবার বলা হয় ভালবাসার ও নিরাপদ শহর। সেই নিরাপদ শেফিল্ড শহরটির মানুষজন করোনায় কঠিন সময় পার করছেন ।
বৃটেনের অন্যান্য শহরের মত শেফিলড ও লকডাউনের সময় বেশ নিরবতার মধ্যে যেতে হচ্ছে । এই শহরের সবাইকে সামাজিক দুরত্ব ও সরকারের গাইড লাইন মেনে চলেছেন । শেফিলড সাউথইয়কশায়ার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ও লকডাউনের সময় তাদের লিমিটেড সাভির্সের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে ।
আমার ভালবাসার প্রিয় শহরটিতে নেই মানুষের কুলাহল বা পদচারনা। একসময় দেশীবিদেশী ইংরেজ বন্ধুদের দেখা হতো । এখন আর সেই দিন নাই। এমনকি ভাই বোন আত্মীয় স্বজনদের সাথেই দেখা হয় না। শুধু টেলিফোন ও ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে ।
আন্তর্জাতিক মানের শেফিলড বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রশুন্য হয়ে থমকে দাড়িয়েছে। শেফিল্ড হাইস্ট্রিটের বড় বড় দামী সপিং সেন্টারগুলো ক্রেতা শূণ্য, যেন নিরব হতাশ । দুই একজন মানুষ বিশেষ কাজে রাস্তাঘাটে চলাচল করলেও চেহারায় অজানা ভয়ের চাপ দেখা যায় । এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি শেফিল্ডর মানুষ কখন দেখে নাই।
আগে প্রতিদিন মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করে আমরা আনন্দ উপভোগ করতাম। করোনার জন্য মসজিদগুলো অনিদিষ্টকালের জন্য ন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই বৎসর পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে তারবির নামাজ হবেনা । তাই মসজিদ কতৃপক্ষ আগাম জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে শেফিলড এস,এন,সির চেয়ারম্যন মজিদ খান ও ডারনাল ফোরামের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান শাহীন শেফিল্ড কমিউনিটির সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারের বিধিনিষেধ সামাজিক দূরত্ব, ঘরে থাকা সহ নানা বিধিনিষেধ সবাই চমৎকার ভাবে পালন করছেন ।
এছাড়া করোনাকালে শেফিল্ড সিটি কাউন্সিল, ডাক্তার, নার্স, সমাজকর্মী, পরিচ্ছন্নকর্মী,সংশ্লিস্ট সবাই বিশেষ সময়ে যারা কাজ করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা হু করোনাকালে পবিত্র রোজা পালনের জন্য চমৎকার গাইড লাইন দিয়েছে । বিশেষ করে জমায়েত এড়িয়ে চলা, নিজেও কোন জমায়েত না ডাকা সহ সামাজিক দুরতত বজায় রাখার গুরত্ব তুলে ধরা হয়।
বরং তার বদলে সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে ভারচুয়েল জমায়েতকে উৎসাহিত করা হয়েছে । সৌদীআরবের গ্রানড মুফতি ও শীষ আলেমগন রমজান মাসে ফরজ ইবাদত ও তারাবিহ ঘরে আদায়ের পরামর্শ দিয়েছেন।
সিনিয়র সাংবাদিক মোসতাক তোফায়েল ও কমিউনিটি সংগঠক ইবি উল্লাহ ন্যাশনাল হেলথ সাভির্সের সম্মানিত সদস্যগনকে রিয়েল হিরো বলে প্রশংসা করেন। আর যারা করোনা রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা দিতে গিয়ে নিজেরা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন । এই বীর সৈনিকদের কমিউনিটির সবাই তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধা ভরে সরন করেন।
শেফিলডে বাংলাদেশী সহ বিদেশি অনেক অভিজাত রেস্টুরেন্ট বন্ধ রয়েছে । আবার বাংলাদেশী ও অন্য দেশীয় অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট ও টেকওয়ে কাসটমারের চাহিদার কথা চিন্তা করে শুধু ডেলিবারীর ব্যবসতা রেখেছেন । এছাড়া বাংলাদেশী ও বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট এন,এইচ , এস হিরো ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থকর্মীদের খাবার উপহার দিচ্ছেন । বিভিন্ন সংগঠন ফুড ব্যাংকের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী উপহার দিচ্ছেন ।
করোনাকালের এই বিশেষ সময়ে শেফিলডের ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম সমাজ চমৎকার অভিমত জানিয়েছেন। পবিত্র মহা গ্রন্থ আলকোরানের উদৃতি তুলে ধরেন। বিপদে যারা ধৈর্য ধারন করে তারাই সফল । আল-কোরান ।
শেফিলডের পরিচিত মুখ হাকিম মৌলানা আবদুল গফফার টেলিফোনে মাধ্যমে জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর এই কঠিন বিপদ মুসিবতের সময় সবাইকে ধৈর্য ধারন করতে হবে। পবিত্র কোরানে বলা হচ্ছে ,
; নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্থতি রয়েছে ;
সুরা ইনশিরাহ ৯৪. ৫
মৌলানা আরও বলেন , জ্ঞান বিজ্ঞান হলো আললাহর নিয়ামত । কোরান হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ বিজ্ঞান । তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম কানুন গাইড লাইন আমাদের মানতে হবে। আমাদের অবশ্যই সবর ও ধৈর্য ছাড়া উপায় নাই।
ইনশাআললাহ আললাহর মেহেরবানীতে মহামারী করোনাকালের পরবর্তী সময় পৃথিবীবাসীর জন্য কল্যাণকর হবে।














