রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আবারো জাতীয় ঐক্যের আহবান বিএনপির

286

ঢাকা সংবাদদাতা: রোহিঙ্গা সমস্যা সামাধানের জন্য জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে এই আহবান জানান দলটির নেতারা। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি আমাদের দেশের জন্য সত্যিকার অর্থে বিপদজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, এই সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষে এককভাবে সম্ভব নয়। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার আহবান জানিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম এই সমস্যার জন্য প্রধানমন্ত্রী, এই সরকারের কেবিনেটের উচ্চ পদস্থরা এবং দেশ বরেণ্যে ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক দলের লোক রয়েছেন তাদের সমন্বয়ে টিম গঠন করে সেইসব দেশ গুলোতে যাওয়া। যারা এই সমস্যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের কথা এই সরকার আমাদের কথা বিন্দুমাত্র কানে নেয়নি। ফলশ্রুততিতে তারা এই দেশ থেকে একটি রোহিঙ্গাকেও পুনর্বাসন করতে পারেনি এবং এর সমস্যা সমাধান করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা আমাদের দেশের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই সরকার এই সমস্যাতো সমাধান করেইনি। উল্টো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কয়েকদিন আগে সেই পুরোনো কথা শুরু করেছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপিকে তারা দায়ী করেছেন। বিশেষকরে আমাকে দায়ী করেছেন। রোহিঙ্গাদেরকে নাকি আমরা উসকে দিচ্ছি। এটা এক ধরণের আত্মহননের কথা। আমরা মনে করি এই ধরণের কথা বার্তা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। মিয়ানমারকে আরো শক্তিশালী করবে এবং বাংলাদেশের সমস্য আরো বৃদ্ধি করবে।

ফখরুল আরো বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে জীবন সম্পদের নিরাপত্তা, পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে সেই নিশ্চয়তা বিধান করতে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ট কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এর জন্য জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদি ড. মাহবুব উল্লাহ, মোফাজ্জল করিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, নরওয়ে, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, ইউএন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ডেমক্রেসি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা।