ঢাকা সংবাদদাতা: এবার সস্ত্রীক ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক।
তবে তারা কোনো হাসপাতালে ভর্তি হননি। নিজের বাসায় থেকেই তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএফএম আঞ্জুমান আরা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অবশ্য প্রকৌশলী আশরাফুল হক বিষয়টি স্বীকার করেননি। তবে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, দাফতরিক কাজে সম্প্রতি প্রকৌশলী আশরাফুল হক কয়েকবার ঢাকা যাওয়া-আসা করেছেন। শেষবার সঙ্গে তার স্ত্রীও গিয়েছিলেন। ফেরার পর তাদের জ্বর হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে তাদের অবস্থা খারাপ নয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার তাদের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রাতেই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান প্রকৌশলী এবং তার স্ত্রীকে দেখতে যান। সেখানে তারা তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।
পরে শুক্রবার সকালে প্রকৌশলী ও তার স্ত্রীকে দেখতে যান সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএফএম আঞ্জুমান আরা বেগম।
তিনি বলেন, প্রধান প্রকৌশলী এবং তার স্ত্রী রাজশাহীতে নাকি ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর বা আশঙ্কাজনক নয়। এ জন্য নিজ বাসাতেই চিকিৎসা চলছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, আমি সকালে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে গিয়েছিলাম। দেখলাম এ নিয়ে আপাতত উদ্বেগের তেমন কিছু নেই। তারা ভালো আছেন।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, এমনি ঠাণ্ডা লেগে জ্বর হয়েছে। তাই বাড়িতেই আছি। ডেঙ্গুজ্বর হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা না। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তো হাসপাতালেই ভর্তি হতাম।
প্রসঙ্গত, প্রথমদিকে রাজশাহীতে যে সব ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে তাদের সবাই এসেছিলেন ঢাকা থেকে। কিন্তু ইতিমধ্যে একজন সাংবাদিকসহ দুইজন রোগীকে পাওয়া গেছে যারা ঢাকা যাননি। আক্রান্ত হয়েছেন রাজশাহীতেই।
গত ১৫ জুলাই থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মোট ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৯ জন। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ৫২ জন। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন।
রাজশাহীতে ডেঙ্গুজ্বর ছড়াতে শুরু করলেও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এখনও তেমন মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। ফগার মেশিন বন্ধ আছে ২০১৫ সাল থেকেই। তবে বুধবার বিকালে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়ে সিটি কর্পোরেশনে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফগার মেশিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।















