ঢাকা সংবাদদাতা: যে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অপহরণ করা হয়েছিল কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহারকে, সে গাড়িটি খুঁজছে পুলিশ। অপহরণের পর যে যে পথে তাকে খুলনা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই পথের বিভিন্ন পয়েন্টেও খোঁজ নিচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মাইক্রোবাসটি উদ্ধার হলে অপহরণকারীদের ধরা সহজ হবে বলেও মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়েছিল বাসার এক শ’ গজের মধ্য থেকেই। গত সোমবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে বাসা থেকে বের হয়ে অপহৃত হন তিনি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ যশোরের অভয়নগরের নোয়াপাড়ায় হানিফ পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব। পরদিন সকালে তাকে ঢাকায় এনে আদাবর থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফরহাদ মজহার পুলিশকে জানিয়েছেন, বাসা থেকে বের হয়ে পাশের সেন্ট্রাল হাসপাতালের ফার্মেসিতে যাওয়ার পথে একটি সাদা মাইক্রোবাস তার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনজন লোক নেমে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অপহরণ মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি-পশ্চিম) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘আমরা গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি অনুসন্ধান করছি। মাইক্রোবাসটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। সেটি উদ্ধার করা গেলে অপহরণকারীদের খোঁজ পাওয়া সহজ হবে। এছাড়া তার মোবাইলফোনের কল-লিস্টও খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে দ্রুত রহস্য উন্মোচিত হবে বলেও জানান তিনি।
ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার শুক্রবার রাতে বলেন, ‘ফরহাদ মজহার এখনও অসুস্থ।’ তার সুস্থ হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি সুস্থ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন।’
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফরহাদ মজহারের অপহৃত হওয়ার সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত কাজ চলছে। কারা তাকে অপহরণ করেছিল, কারা তাকে মাইক্রোবাসে করে খুলনায় নিয়ে যায়, কারা তাকে টিকিট কেটে দিয়েছে, এসবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ফরহাদ মজহারকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিপণ ছাড়াই বাসের টিকিট হাতে দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।















