ঢাকা সংবাদদাতা: একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের নামে ‘তামাশা’ হয়েছে দাবি করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, প্রমাণিত হল যে বাংলাদেশে দলীয় সরকার রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবপর নয়।
ভোটগ্রহণের মাঝপথে রোববার দুপুরে কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ায় অভিযোগ নিয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যায় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলের প্রধান ইসিতে অভিযোগ দিয়ে আলাল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের নামে এই তামাশার কোনো প্রয়োজন ছিল না বলে এখন আমাদের মনে হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি একটা গেজেট দিলেই হত যে নৌকা ২৯৯ আসন বা দুইশ সাড়ে নিরানব্বই আসন পেয়ে গেছে। এমনটা করলেও অবার হওয়ার কিছু থাকত না।
আলাল বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে, কিন্তু সেই অংশগ্রহণটা আজ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। আমাদের কথাই প্রমাণিত হল যে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।
‘নির্বাচনে অংশ না নিলে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হবে’- অনেকের এই কথায় বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে জানান তিনি।
আলাল বলেন, বলা হয়েছিল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপি পিছিয়ে যাবে। আমরা পরিপূর্ণ উৎসাহ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেখালাম দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।
তবে নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘জাগরণ’ এসেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব, যিনি নিজে এবার ভোটের লড়াইয়ে থাকেননি।
আলাল বলেন, কিন্তু যেদিন আমরা দেখলাম বাংলাদেশের সকল নির্বাচনের ইতিহাসের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশন এর পক্ষ থেকে বলা হল নির্বাচনের দিন সমস্ত হাসপাতাল, সকল ডাক্তার ও সকল এ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডবাই রাখতে, সেদিনই আমরা ভেবেছিলাম যে বোধহয় নির্বাচনটা একটা সাংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে। উনার (সিইসি) সেই আশঙ্কাটাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে এখন। আমরা যে কথাটি বার বার বলছিলাম, যেটাকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ভোটারদের ভয় দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে দূরে রাখা হবে, সেই চিত্রই আমরা দেখছি।
বিএনপির এজেন্টদের বাধার অভিযোগ তুলে ধরে আলাল বলেন, ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভোটারদের ঢুকলেই বলা হচ্ছে, আমাদের সমানে থেকে নৌকায় ভোট দিন অথবা তাদের সামনে সিল মারা হচ্ছে। এটি করা হচ্ছে বিশেষ করে অতিউৎসাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায়।
সকালে ভোটের শুরুতে যে প্রত্যাশা ছিল বিএনপির, দুপুর গড়াতেই তাতে ‘পদাঘাত করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলাল বলেন, আমরা মনে করি প্রতীক্ষিত নির্বাচনের সঙ্গে যারা তামাশা করলেন, এটাকে রক্তাক্ত করলেন, আহত করলেন, তারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে। ভোটারদের একদিনের রাজা হওয়ার সুযোগটাকে ধূলিসাৎ করেছে।
২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২১টি আসনে নানা অনিয়মের অভিযোগ ইসিতে জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনে থাকবেন কি না- জানতে চাইলে আলাল বলেন, নির্বাচন বর্জনের তো কিছু নেই। আমারা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আছি। আমরা কী করব, সেটা জোটগতভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেব।
বিএনপির লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শনিবার রাতে দেড় শতাধিক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সহযোগিতায় ৪০০ থেকে ৫০০ ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়। নির্বাচন শুরুর আগে প্রায় ২৫০টি আসনের ধানের শীষের প্রতীকের এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয়েছে।















