বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন গ্রেপ্তার

480

ঢাকা সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

সোমবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় নগরীর চাষাঢ়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে কমপক্ষে তিন-চারটি মামলা রয়েছে। সেই মামলার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। সেই ইস্যুতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় আটক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গেল ৩১ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদীন।

মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, মঙ্গলবার ৩০ অক্টোবর দুপুরে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের অর্থায়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর চাষাঢ়ায় সমবেত হয়ে গোপন বৈঠক করে। ওই বৈঠকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রসহ ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জকে বিচ্ছিন্ন করার গভীর চক্রান্ত করছিল। সেখান থেকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি পুরাতন ভাঙা লাল স্কচটেপ মোড়ানো জর্দার কৌটা ও চারটি ইটের টুকরা জব্দ করা করে। ঘটনার সময়ে আটক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, বিএনপি নেতা নাজমুল হাসান, ইয়াছিন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হয়ে আলোচিত হন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপরীতে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসেন তিনি। নির্বাচনে পরাজিত হলেও এর পরপরই তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতির পদ পান।