আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঋণের বোঝা কমাতে দেশজুড়ে সাশ্রয় অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ধনীদের নিয়মতি কর প্রদানের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বুলেটপ্রুফ গাড়িগুলোর বেশিরভাগ বিক্রি করে দিয়ে নিজেই এ অভিযানের উদ্বোধন করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্স ও ডনের। ৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শনিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রোববার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রথম ভাষণে ইমরান ইসলামী কল্যাণমূলক ব্যবস্থায়‘নতুন পাকিস্তান’ গড়ার দিকে দৃষ্টি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, অন্য দেশ থেকে সহায়তা নিয়ে চলা এবং ঋণ নিয়ে জীবনযাপন আমাদের বাজে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এভাবে কেউ উন্নতি করতে পারে না।
দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণা দিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ ভোটার ও পাকিস্তানে ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মন জিতে ইমরান বিজয়ী হয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে বিরোধী দলগুলো ইমরানের জয়ের পেছনে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর হাত আছে বলে অভিযোগ করেছে।
ঔপনিবেশিক আমলের মানসিকতা ও অভিজাত পাকিস্তানিদের বিলাসী জীবনযাপনের সমালোচনা করে পিটিআইর এ নেতা প্রাসাদোপম প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বদলে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ছোট বাসায় থাকবেন বলে ঘোষণা দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিয়োজিত ৫২৪ জন কর্মচারীর সংখ্যা কমিয়ে ২ এ নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন, পাশাপাশি বুলেট প্রুফ গাড়ি বহরের অধিকাংশই বিক্রি করে দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ঘাটতি মোকাবিলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
মুসলিম জঙ্গিদের হুমকির মুখে থাকা পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন পদক্ষেপ ‘বেশ সাহসী’ বলে মনে করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভাষণে প্রবাসী পাকিস্তানিদের নিজের দেশে বিনিয়োগ ও ধনীদের নিয়ম মেনে কর দেওয়ারও আহ্বান জানান ইমরান। ব্যক্তি পর্যায়ে কর ফাঁকির জন্য পাকিস্তান বিখ্যাত, দেশটির মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম লোক নিয়মিত আয়কর দেয়।
একসময়কার প্লেবয় থেকে ধর্মীয় রাজনীতিতে আকৃষ্ট হওয়া এ সাবেক ক্রিকেটার বলেছেন, মদিনায় নবী মোহাম্মদ যে আদর্শ রাষ্ট্রের কথা বলেছিলেন, পাকিস্তানকে সেই আদলেই একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান তিনি।
তার ভাষায়, ‘আল্লাহ যাদের পর্যাপ্ত দেননি আমি তাদের পেছনেই খরচ করতে চাই।’















