ঢাকা সংবাদদাতা: অর্থমন্ত্রী পাট খাতের ব্যাপারে আন্তরিক নয়। এ খাতের কোনো ফাইল গেলে তিনি মনোযোগ দিতে চান না। মন্ত্রীর কারণে ওই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও পাট খাত নিয়ে কাজ করতে চান না। নানাভাবে জটিলতা সৃষ্টি করে। বললেন পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আজম বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অন্যান্য কাজ স্বাভাবিকভাবে করেন। কিন্তু পাটের ফাইল গেলেই গতি কমে আসে। যখন পাটের দাম কম থাকে, তখন অর্থ ছাড় করেন না। আর দেরিতে অর্থছাড় করায় প্রতিবছর প্রায় ৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। এর কারণ অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেতাত্মা বসে আসে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাট খাত নিয়ে এখনও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হচ্ছে সরকারকে। পাটকে কৃষিপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য দুই বছর ধরে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। এসব চিঠি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হবে।
মির্জা আজম বলেন, দেশের পাট খাত ধ্বংসের জন্য বিশ্বব্যাংকের ষড়যন্ত্র ছিল। তাদের পরামর্শেই সরকারি পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়। বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজী জুট মিল ২০০২ সালে বিএনপি সরকার বন্ধ করে দেয়।
তিনি বলেন, তখন মিল বন্ধ করতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া হয়েছে। অথচ ওই একই সময়ে ভারতে নতুন পাট মিল চালু করতে অর্থ সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
তিনি বলেন, আমি মন্ত্রী হয়েও টেবিলে টেবিলে ঘুরে বেড়াই কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাটের ফাইল ছাড় হয় না।
মির্জা আজম বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর বন্ধ মিল চালু করেছে শেখ হাসিনা সরকার। এ সময়ে ৬টি পণ্যে পাটমোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপরই পাট খাতের অগ্রগতি শুরু হয়। তবে অগ্রগতির পথে ধাক্কা কম আসেনি। ২০১৪ সালে হঠাৎ করে ভারত রফতানিকৃত কাঁচা পাটে বিধিনিষেধ জারি করে। এরপর এন্ট্রি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়। কিন্তু তেমন ক্ষতি করতে পারেনি। এ সময়ে দেশের বাজারে চাহিদা বাড়াতে আরও কয়েকটি পণ্যে পাটের মোড়ক বাধ্যতামূলক করা হয়। বর্তমানে ১৭টি পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গত তিন বছরে পাটের অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৫ সালে কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়েছে ৬৮ লাখ বেল, ২০১৭ সালে কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়েছে ৮৫ লাখ বেল। বর্তমানে তা বেড়ে ৯১ লাখ বেলে উন্নীত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা পাটজাত পণ্যের বহুমুখীকরণে কাজ করছি। গত বছর পাটের পণ্যের বহুমুখীকরণের তালিকা পেয়েছিলাম ১৩৫টি, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেটা ২৪০ এসে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পাটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে পাটের বহুমুখী পণ্যের রফতানির উপর ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
পাটের বর্তমান লোকসানকে যৌক্তিক দাবি করে মির্জা আজম বলেন, বর্তমানে বিজেএমসির ৬০ হাজার শ্রমিক রয়েছে। আর সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের মজুরির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। মজুরি খাতে প্রতিবছর ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।















