জাতীয় পার্টিকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছেন রওশন এরশাদ

542

ঢাকা সংবাদদাতা: সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টিকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছেন সংসদে।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম, মন্ত্রিসভা থেকে আমাদের পার্টির সদস্যদের প্রত্যাহার করুন। কিন্তু সেটা হয়নি। এভাবে টানাটানি করে বিরোধী দল হওয়া যায় না। হয় আমাদের বিরোধী দল হতে দেন নয় তো সবাইকে মন্ত্রী বানাইয়া দেন। আমি লজ্জায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে পারিনা। জাতীয় পার্টির হয়ে কোথাও আমি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি না। বিশ্বের কোন দেশে এমন নজির নেই। তাই আপনার কাছে অনুরোধ আপনি আমাদের মন্ত্রীত্ব ফিরিয়ে নিয়ে জাপাকে বাঁচান। আমরা পরিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চাই।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ১৯তম ও শীতকালীন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ আহ্বান জানান। এসময় তিনি যানজট, খাদ্যে ভেজাল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নগরীতে মশার উপদ্রপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা এ সময় রওশন এরশাদের পাশের আসনে বসে ছিলেন। রওশন এরশাদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের (সরকারে থাকা জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের) মন্ত্রীত্ব নিয়ে নেন। সরকারে দু’য়েকজন মন্ত্রী থাকায়, আমরা না বিরোধী দল, না সরকারী দল। মন্ত্রীত্ব নিয়ে নিলে জাতীয় পার্টি বেঁচে যেত।’

রওশন এরশাদ আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনিও তো বলতে পারেন না জাতীয় পার্টি সরকারের শরীক না বিরোধী দল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের নিয়ে বাইরে অনেক কথা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলাম আমাদের মন্ত্রীত্বগুলো উইথ ড্র করেন। আমাদেরকে বিরোধী দলের মতো বিরোধীতা করতে দিন। কিন্তু সেটা আর হয়নি। সেজন্য বিরোধী দল হতে পারিনি। এভাবে টানাটানি করে বিরোধী দল হওয়া যায় না। হয় বিরোধী দল, নয় সরকারি দল। আমাদেরকে হয় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে দিন, নয়তো আমাদের ৪০ জনকে সরকারি দলে নিয়ে নিন। বিরোধী দল দরকার নেই।’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বলতে পারেন বিরোধী দল আছে? আমরাও বলতে পারি না । সেজন্য কোথাও ইন্টারভিউ দেইনা।’

রওশন এরশাদ বলেন, ‘পদ্মা সেতু শুরু হয়েছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এখনও কাজ চলছে। এখন সেখানে বালু উত্তোলন চলছে। পদ্মা সেতুর আশপাশে অনেকে জায়গা দখল করে হোটেল-মোটেল তৈরি করা হয়েছে। এগুলো তৈরির আনুমতি কে দিয়েছে? কারা দিয়েছে?। এসব হলে পদ্মা সেতু রিস্কের মধ্যে পড়ে যাবে। এগুলো দেখা দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে সোনার ছেলে তৈরি করতে হবে। সেটা কোথায় তৈরি হচ্ছে। আজকাল বাচ্চাদের খেলার জন্য কোন মাঠ নেই। সব দখল হয়ে গেছে। খেলাধুলা করতে না পারলে বাচ্চাদের শরীর ভালো থাকে না। ’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনি সবকিছু মায়ের মমতায় সমাধান করে থাকেন। এখন চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা যে আন্দোলন করছেন তা সমাধান করে ফেলা উচিত।’