আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটিশ ডানপন্থী সংগঠনের মুসলিমবিদ্বেষী ভিডিও রিটুইট করার ঘটনায় ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভি’র সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ওই ডানপন্থী সংগঠনটি সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আপনি আমাকে বলেন যে তারা ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর বর্ণবাদী মানুষ, আপনারা চাইলে আমি অবশ্যই ক্ষমা চাইব।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
গত নভেম্বরে ট্রাম্প ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ নামে উগ্র-ডানপন্থী সংগঠনের তিনটি ভিডিও রিটুইট করেন ট্রাম্প। প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম শরণার্থী ক্রাচে ভর দিয়ে থাকা এক ওলন্দাজ বালককে আঘাত করছে। এরকম আরও দুটি ভিডিও টুইট করেন ফ্রানসেন। সেগুলোর একটিতে দেখা যায়, এক দল লোক এক বালককে ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে এবং আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন ভার্জিন ম্যারির ভাস্কর্য নষ্ট করছে। দুটি ভিডিওতেই আক্রমণকারী ব্যক্তিদেরকে মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই ভিডিওগুলোই রিটুইট করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। চাপের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে-র মুখপাত্র বলেন, ‘এই কাজ করে প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) ভুল করেছেন।’ জবাবে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যকে নিজ দেশের ইসলামি সন্ত্রাসীদের দিকে নজর দিতে বলেন।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে নেওয়া ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারটি ২৮ জানুয়ারি রবিবার ব্রিটেনের সময় রাত ১০টায় প্রচার করা হবে। সাক্ষাৎকারে টুইটগুলোর জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করবেন কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা করেছি কারণ আমি ইসলামি মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিশ্বাস করি।’
ব্রিটেন ফার্স্ট দলটি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না দাবি করে ট্রাম্প বলেন, আমি তাদের সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি এ ধরনের মানুষের সঙ্গে জড়াতেই চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ সত্যি বলতে যদি আপনারা বলেন তারা ভয়ঙ্কর মানুষ, ভয়ঙ্কর বর্ণবাদী মানুষ, তাহলে আপনার চাইলে আমি অবশ্যই ক্ষমা চাইব।’
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, এই বিতর্কটি যু্ক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে বড় কোনও বিষয় না। কেউ কেউ ট্রাম্পের যু্ক্তরাজ্য সফরের বিরোধিতা করছে – এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কিছু শুনিনি। আমি মনে করে আপনার দেশের অনেক সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষ আমার অবস্থান পছন্দ করে।’ তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর খুবই ভাল সম্পর্ক রয়েছে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী পিয়ার্স মরগান এর আগে নিজেকে ট্রাম্পের ভাল বন্ধু হিসেবে দাবি করেছিলেন। সাক্ষাৎকার শেষে তিনি মরগান বলেন, ‘ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া উচিত এটা সঠিক ও যথাযথ। আমি মনে করি এটা প্রেসিডেন্টের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরাজয়।’
এদিকে ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারের বিষয়ে ভিডিওগুলো টুইটারে আপলোডকারী ব্রিটেন ফার্স্ট দলের নেত্রী ফ্রানসেন দাবি করেন বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আসলে ট্রাম্প ভিডিওগুলো রিটুইট করেছেন কারণ সেগুলো জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিষয়। ইসলামি সন্ত্রাসবাদ আমাদের সবাইকে আক্রান্ত করছে। তাকে (ট্রাম্প) বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চাইতে চাপ দেওয়া হয়েছে।’ ফ্রানসেন আরও দাবি করেন, তিনি সত্যি ভয়ঙ্কর বর্ণবাদী হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিন্দা করতেন।















