‘রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার চেষ্টা করছে’

517

ঢাকা সংবাদদাতা: কতিপয় অসৎ লোকের সহযোগিতায় রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ‘একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’ সংগঠনের আহ্বায়ক, লেখক ও গবেষক আবীর আহাদ।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মুক্তিযোদ্ধার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বিতাড়নের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে এই সংগঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বাতিল ও মুক্তিযোদ্ধার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন আবীর আহাদ।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি নতুন প্রায় পৌণে দু’লাখ মুক্তিযোদ্ধা গণ্য করে জামুকাতে সুপারিশ করেছে। যার ৯৯ শতাংশই ভুয়া। এছাড়া যাছাই বাছাই কমিটি আগের ৬০ হাজার ভুয়া মুক্তিাযোদ্ধাদের বিতাড়নের পরিবর্তে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুপারিশ করেছে।’

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করার জন্য ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত সংজ্ঞা উল্লেখ করে আবীর আহাদ বলেন, ‘সেই সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা মানে যিনি মুক্তিযুদ্ধে নিয়োজিত যে কোন সংগঠিত দলের সদস্য হিসেবে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত সংজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোজামিলের সংজ্ঞা দিয়ে হাজার হাজার অ-মুক্তিযোদ্ধা, এমনকি রাজাকারদেরও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ফেলেছে।

২০১৭ সালের প্রথম দিকে জামুকা একটি নির্দেশিকা তৈরি করে। ভারতীয় তালিকা ও লাল মুক্তিবার্তা তালিকা বাদ রেখে, গেজেট ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সনদধারীসহ অনলাইনে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করে, ভুয়া বাতিল ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করে।’

আবীর আহাদ বলেন, ‘জামুকার নির্দেশিকায় ভারতীয় ও লাল মুক্তিবার্তার মুক্তিযোদ্ধা- এমন তিনজনের স্বাক্ষরের ভিত্তিতে যে কোন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবেন বলে একটি আত্মঘাতি ফর্মুলা নির্দেশিকায় জুড়ে দেওয়া হয়। ফলে যাচাই বাচাই কমিটির অধিকাংশ সভাপতি/সদস্য ও সুযোগ সন্ধানীরা এটিকে বাণিজ্যিক হাতিয়ার বানিয়ে ফেলে।

তারা দুই থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে অ-মুক্তিযোদ্ধা, এমনকি রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বানানোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে।এর ভাগ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জামুকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড, ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ ও পাতি নেতারা পেয়েছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৫ বছরের মধ্যে বিভিন্ন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার বিষয়ে বহুবার রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করার পরও কোন মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারপরও কেউ কেউ যদি বাদ পড়ে থাকেন, অন্য প্রক্রিয়ায় তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা যেত।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক মো. রুস্তম আলী মোল্লা, মো. ফজলুল হক, মো. সারওয়ার হোসেন, শেখ মো. কাশেম, মো. হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শরীফ, মো. কামালুজ্জামান, সদস্য সচিব-মো. আবুল বাশারসহ নতুন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।