সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসলের একটি হাসপাতালে চরম চিকিৎসাগত অবহেলার শিকার হয়েছেন ড্যানিয়েল ব্রাউন নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। গর্ভে থাকা সন্তান মা*রা যাওয়ার পর তাকে সরাসরি প্রসব না করিয়ে একটি নির্দেশিকা বই ধরিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি মৃ*ত সন্তান প্রসব করানোর জন্য পরবর্তীতে সময় বা স্লট নির্ধারণ করার নির্মম পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্বে অবহেলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, রোগীকে আগে বাড়ি না পাঠালে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো। ভুক্তভোগী দম্পতিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান হলেও পুরো ব্রিটেনজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের নর্থ শিল্ডসের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ব্রাউন ও তার সঙ্গী অ্যান্টনি মিলার ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে গর্ভধারণের সাত মাসের মাথায় ড্যানিয়েল প্রি-এক্লাম্পসিয়ায় আক্রান্ত হন এবং নিউক্যাসলের রয়্যাল ভিক্টোরিয়া ইনফার্মারিতে ভর্তি হলে চিকিৎসকেরা গর্ভস্থ শিশু মেইসির হৃৎস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে রাখার পরামর্শ দিলেও মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেকজন চিকিৎসক তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
বাড়ি ফেরার পর শারীরিক অস্বস্তি বাড়ায় ড্যানিয়েল পুনরায় হাসপাতালে যোগাযোগ করলে তাকে পেটের সাধারণ সমস্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি জোর করে হাসপাতালে গেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্ক্যানে জানানো হয় যে গর্ভেই শিশু মেইসির মৃত্যু হয়েছে। সন্তান হারানোর তীব্র শোকের মুহূর্তেই কোনো প্রকার সহানুভূতি না দেখিয়ে তাকে শোকার্ত অভিভাবকদের একটি পুস্তিকা দেওয়া হয় এবং অন্য একটি দিনে প্রসব করানোর স্লট বুক করতে বলা হয়।
পরবর্তীতে নিউক্যাসল আপন টাইন হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন এই দম্পতি। হাসপাতাল ট্রাস্ট নিজেদের ভুলের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে মেনে নিয়েছে যে, প্রথম দফায় ড্যানিয়েলকে বাড়ি না পাঠালে তাদের সন্তান বেঁচে থাকত। আইনজীবী ফয়সাল আলী জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এবং দেশজুড়ে মাতৃত্বকালীন চিকিৎসাসেবার মান মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে শত শত পরিবার এমন ট্র্যাজেডির শিকার হচ্ছে।
বর্তমানে হ্যারিসন নামের দুই বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে এই দম্পতির, তবে ফেলে আসা সেই দুঃসহ স্মৃতি তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক ইয়ান জয় পুরো ঘটনার জন্য আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর জরুরি মাতৃত্বকালীন সেবায় বেশ কিছু সংস্কার আনা হয়েছে।
#যুক্তরাজ্য_সংবাদ #যুক্তরাজ্য_স্বাস্থ্যসেবা #চিকিৎসায়_গাফিলতি #aknews #onebanglanews















