সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে নিজের তিন সন্তানকে হ*ত্যার দায়ে ইয়াসমিন আলী নামের এক নারীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্লেইজ ওয়াকের একটি বাসা থেকে তিন শিশুর মৃ*ত দে*হ উদ্ধার করা হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে তীব্র মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই তিনি এই অপ*রাধ ঘটিয়েছিলেন। শুনানিতে সন্তানদের ওপর আ*ঘাতের বিস্তারিত বিবরণ শুনে কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই মা। বিচারক স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে সুস্থ মানসিক অবস্থায় থাকলে তিনি কখনোই নিজের সন্তানদের হ*ত্যা করতেন না।
ব্রিস্টল ক্রাউন কোর্টে শুনানির সময় জানা যায়, ঘটনার দিন জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে আরবি ভাষায় কথা বলেন ইয়াসমিন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও বিশৃঙ্খল অবস্থায় তাকে পায় এবং বিছানায় সাত বছর বয়সী ফারিস, তিন বছর বয়সী জৌরি এবং নয় মাস বয়সী মোহাম্মদ বাশের নিথর দেহ দেখতে পায়। তদন্তে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে তিনি সিজোঅ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন এবং তীব্র মানসিক বিভ্রান্তির মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।
সুদানে পূর্বে নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইয়াসমিন ২০১৫ সালে মিশরে পারিবারিকভাবে আলফিল বাশকে বিয়ে করেন এবং পরের বছর যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। তবে পরবর্তী সময়ে দাম্পত্য কলহ এবং নির্যাতনের কারণে তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি এই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র ছয় দিন আগে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, যার জন্য সংশ্লিষ্ট এনএইচএস ট্রাস্ট আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
সন্তানদের হারিয়ে তাদের বাবা আলফিল বাশ জানান, সন্তানরাই ছিল তার পুরো পৃথিবী এবং তাদের ছাড়া বাকি জীবন তিনি কেবল গভীর শোকেই কাটাবেন। অন্যদিকে বিচারক জাস্টিস লিন্ডেন রায়ে উল্লেখ করেন যে মানসিক অসুস্থতার কারণেই এমন ট্র্যাজেডি ঘটেছে এবং সন্তান হারানোর এই অসহনীয় যন্ত্রণা ওই মাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
#যুক্তরাজ্য #ব্রিস্টলসংবাদ #আন্তর্জাতিকখবর #aknews #onebanglanews















