সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর ম্যানচেস্টারে অভিবাসীদের বাড়ি ভেবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে হা*মলা ও ভাঙ*চুর চালাতে শিশুদের ভাড়া করছে একদল অপ*রাধী। গত ৫ অক্টোবর থেকে সালফোর্ড, স্টকপোর্ট ও টেমসসাইড এলাকায় অন্তত ৪৬টি বাড়ি ও গাড়িতে না*শকতার অভিযোগ পেয়েছে স্থানীয় পুলিশ। অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের এমন অপ*কর্মে নামানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বার্তার কারণে এই সং*হিসতা ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে এক কিশোরসহ বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই গ্রে*প্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রধানত স্যালফোর্ড ছাড়াও স্টকপোর্ট এবং টেমসসাইড এলাকায় বহু বাড়িঘরকে নিশানা করা হয়েছে। এসব বাড়ির বেশিরভাগই মূলত একাধিক ব্যক্তির বসবাসের জন্য ব্যবহৃত এইচএমও ধরনের আবাসন অথবা ভুলবশত এমন বাড়ি মনে করে আক্রমণ করা হয়েছে। আক্রমণকারীরা ভবনের কাচ ভেঙে ফেলছে এবং দেয়ালে অভিবাসীবিরোধী নানা অবমাননাকর বাক্য লিখে দিচ্ছে।
চিফ সুপারিনটেনডেন্ট মার্কাস নোডেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিশুদের অর্থের বিনিময়ে এমন ধ্বংসাত্মক কাজে নামানোর বিষয়টি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। স্যালফোর্ডে সম্প্রতি একটি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এছাড়া বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কায় আরলাম ও ক্যাডিসহেড এলাকা থেকে অভিবাসীবিরোধী বিভিন্ন ব্যানারও অপসারণ করেছে স্যালফোর্ড কাউন্সিল।
পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলার পেছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ছবি পোস্ট করে সহিংসতাকে উৎসাহিত করা হলেও অনেকে এমন প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে সম্প্রতি এসব আবাসনে আশ্রয় নিয়েছেন, তারাও এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ সপ্তাহে পুলিশ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে সোমবার ৪৬ ও ৩৯ বছর বয়সী দুই ব্যক্তি এবং বুধবার ৩৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এর আগেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরসহ বেশ কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ।
#যুক্তরাজ্য #ম্যানচেস্টারসংবাদ #ব্রিটেনখবর #aknews #onebanglanews















