লন্ডনে মিল্কশেক খেয়ে কিশোরীর করুণ মৃ*ত্যু,ক্যাফের অবহেলা না অন্য কিছু?

63

নোংরা ব্লেন্ডারের মিল্কশেকে প্রাণ গেল কিশোরীর

সাইফ হাসান: লন্ডনে একটি ক্যাফেতে নোংরা ব্লেন্ডারে তৈরি মিল্কশেক খেয়ে প্রাণ হারিয়েছে বারো বছর বয়সী এক কিশোরী। বাদামে অ্যালার্জি থাকা সত্ত্বেও ক্যাফের অবহেলায় ব্লেন্ডার পরিষ্কার না করায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এর জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মা*রা যায়। এই ঘটনার পর খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অ্যালার্জি ব্যবস্থাপনা রেটিং চালু করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের বারমন্ডসে এলাকার পপ ইন ক্যাফেতে যায় মিয়া সেন্ট হিলারে নামের ওই কিশোরী। সেখানে সে একটি টুইক্স মিল্কশেক পান করে তীব্র অ্যালার্জিক শকে আক্রান্ত হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, আগের তৈরি করা কিন্ডার বুয়েনো মিল্কশেকের হ্যাজেলনাট ব্লেন্ডারে লেগে ছিল এবং সেটি পরিষ্কার না করেই নতুন মিল্কশেক বানানো হয়েছিল।

লন্ডন ইনার সাউথ করোনাস কোর্টের তদন্তে জানা যায়, ক্যাফের মালিক বারিস ইউসেল ব্লেন্ডারটি না ধুয়েই খাবার তৈরি করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও এই অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। খাদ্য নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্যাফেটিকে ১৮ হাজার পাউন্ড জরিমানা এবং মালিককে ১০০ ঘণ্টার কমিউনিটি সার্ভিসের সাজা দেওয়া হয়।

মিয়ার বাবা-মা আদ্রিয়ান সেন্ট হিলারে এবং চানেল স্পেন্স জানিয়েছেন, বাইরে খেতে গিয়ে যাতে কোনো পরিবারকে এমন ঝুঁকির মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তারা সাধারণ হাইজিন রেটিংয়ের পাশাপাশি রেস্তোরাঁগুলোতে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা রেটিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সির ফুড পলিসি বিষয়ক পরিচালক রেবেকা সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, প্রতিটি খাদ্য ব্যবসার উচিত অ্যালার্জির ঝুঁকিগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা। খাবারের সঠিক উপাদান সম্পর্কে গ্রাহকদের পরিষ্কার তথ্য দেওয়া প্রতিষ্ঠানের আইনি দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে নতুন নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।

#লন্ডনসংবাদ #অ্যালার্জি #খাদ্যনিরাপত্তা #aknews #onebanglanews