সাইফ হাসান: ব্রিটেনে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা বা এনএইচএসে রোগীর উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। সদ্য বিদায়ী গ্রীষ্ম মৌসুমে জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং হেল্পলাইনে চিকিৎসা নেওয়ার হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম আবহাওয়া এখন সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যে নজিরবিহীন প্রভাব ফেলছে। ফলে শীতকালের মতো গ্রীষ্মেও এখন জরুরি স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়ছে পুরো ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এনএইচএস ইংল্যান্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রায় ৭৩ লাখ মানুষ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা নিতে এসেছেন। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় অন্তত দুই লাখ ৪০ হাজার বেশি। এর পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ডাকার হার বেড়ে ২৪ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে এবং টেলিফোন পরামর্শ সেবা এনএইচএস ১১১-এ ৩০ লাখেরও বেশি ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক থিংকট্যাংক কিংস ফান্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ উলনফ জানান, অতিরিক্ত গরম এখন আর সাধারণ আবহাওয়ার খবর নয়, বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় সংকটে রূপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন তাপপ্রবাহ তৈরি হওয়ায় এনএইচএস এখন দ্বিমুখী চাপের মুখে রয়েছে। এ কারণে এক মৌসুমের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই কর্মীদের ওপর নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে দেড়শ কোটি পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইভেট কুপার স্বীকার করেছেন যে স্বাস্থ্যসেবার অতিরিক্ত চাপ এখন আর শুধু শীতকালেই সীমাবদ্ধ নেই। তবে এই বরাদ্দের একটি বড় অংশ নতুন অপারেশন থিয়েটার ও শিশু ওয়ার্ড নির্মাণে ব্যয় হলেও হাসপাতালগুলোর গরম মোকাবিলার জন্য মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড রাখা হয়েছে।
অ্যাজমা অ্যান্ড লাং ইউকে সংস্থার পরিচালক অ্যান্ড্রু ম্যাকক্র্যাকেন বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসকষ্টের রোগীদের ভোগান্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের অপেক্ষমাণ তালিকা বেড়ে ৭৩ লাখে পৌঁছেছে, যা সরকারের নির্ধারিত স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
#যুক্তরাজ্যসংবাদ #স্বাস্থ্যসেবা #এনএইচএস #aknews #onebanglanews















