সাফোকে ইসলামি সমাবেশে হামলার সন্দেহে ১২ জন গ্রেপ্তার

হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তিনজনের বিরুদ্ধে

13

যুক্তরাজ্যের সাফোকে অনুষ্ঠিত একটি ইসলামি ধর্মীয় সমাবেশকে লক্ষ্য করে কথিত চরম ডানপন্থি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের সন্দেহে তদন্ত চলছে।

লন্ডন কাউন্টার টেররিজম পুলিশ (সিটিপি) জানায়, ৯ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সাফোকের শ্রাবল্যান্ড হলে অনুষ্ঠিত ইউকে ইজতিমা উপলক্ষে একটি গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আয়োজকদের অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে প্রায় ১৫ হাজার অংশগ্রহণকারী নিরাপদে স্থান ত্যাগ করেন।

রোববার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় ইপসউইচের ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, এসেক্সের দুইজন ৪২ বছর বয়সী ব্যক্তি এবং সারের ২৭, ২৯, ৫৫, ৬০ ও ৮২ বছর বয়সী পাঁচজনকে।

সোমবার আরও গ্রেপ্তার হন দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং পূর্ব লন্ডনের ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও ৪৮ বছর বয়সী এক নারী।

গ্রেপ্তার হওয়া ৮২, ৬০ ও ৫৫ বছর বয়সী তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে ৮২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

৪৮ বছর বয়সী ওই নারীকে অপরাধীকে সহায়তা করার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০-এর ৪১ ধারায় আটজন পুরুষকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।

লন্ডন কাউন্টার টেররিজম পুলিশের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান বলেন, ইসলামি এই সমাবেশকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য গুরুতর হুমকির খবর পাওয়ার পর দেশজুড়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনার খবর বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে, কারণ প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হামলার লক্ষ্য ছিল একটি ইসলামি অনুষ্ঠান। তবে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা এখনও ‘সিভিয়ার’ (গুরুতর) পর্যায়ে রয়েছে—এ বিষয়টির আরেকটি স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই জনগণকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, ইউকে ইজতিমা উৎসবকে লক্ষ্য করে বিশ্বাসযোগ্য হুমকি মোকাবিলায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে

তিনি বলেন, এই ঘটনা ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য গভীর উদ্বেগের। ঘৃণা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সহনশীল ও বহুত্ববাদী সমাজ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এদিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাফোক পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অ্যালিস স্কট বলেন, রোববার ভোরেই ঘটনাটিকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে ১৫ হাজার অংশগ্রহণকারীর নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পরে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রাবল্যান্ড হল এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সাফোক পুলিশ।