বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনর্গঠনে সহায়তা করবে এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন শোষণ করবে।
যুক্তরাজ্যের জলসীমায় অন্যতম বৃহৎ পুনর্বন্যায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে উত্তর সাগরে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি কিশোর (juvenile) ঝিনুক ছাড়া হবে।
এই প্রকল্পে একটি বিশেষভাবে তৈরি লালন-পালন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যার মাধ্যমে অর্কনি অঞ্চলের আশপাশে একটি বিশাল ঝিনুকের আবাসস্থল পুনর্গঠন করার আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে জলবায়ু ও পরিবেশগত নানা ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে, যাকে “ট্রফিক ক্যাসকেড” বলা হয়।
প্রকল্পটির নেতৃত্বদানকারী সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ল্যান্ড বলেন, এটি পুরো বাস্তুতন্ত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু মাছ বা উপসাগরের জন্য নয়, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, সামুদ্রিক পাখি এবং পুরো পরিবেশের জন্য উপকারী হবে।”
গ্রিন ব্রিটেন ফাউন্ডেশন, নেচার রিস্টোরেশন ফান্ড, মেরিন ফান্ড স্কটল্যান্ড এবং নর্থ বে ইনোভেশনস যৌথভাবে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এটি যুক্তরাজ্যের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঝিনুকের আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে কাজ করবে।
এক সময় ঝিনুকের আবাসস্থল যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং উত্তর সাগরের কিছু এলাকা ওয়েলসের সমান বিস্তৃত ছিল। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের সময় ঝিনুক শ্রমিকদের জনপ্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়। ১৮৪০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে শুধু লন্ডনেই প্রায় ৭০ কোটি ঝিনুক খাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জাহাজ চলাচলের পথ পরিষ্কার করতে ঝিনুকের আবাসস্থল ধ্বংস করার ফলে ঝিনুকের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্কনির এই প্রকল্প উপকূলীয় পানির পরিবেশ পুনরুদ্ধার, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং পানির মান উন্নত করতে সহায়তা করবে।
গ্রিন ব্রিটেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডেল ভিন্স বলেন, ঝিনুকের আবাসস্থল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০০ হেক্টরের বেশি এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ঝিনুক পুনরুদ্ধার করা হবে, যা প্রতি বছর প্রায় ৭৬ টন CO₂ শোষণ করতে পারে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ঝিনুকের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করা, যাতে ভবিষ্যতে কার্বন শোষণের ক্ষমতা হাজার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই উদ্যোগে প্রথমে স্থলভাগে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট সমৃদ্ধ প্লেটে ঝিনুক বড় করা হবে। এরপর সেগুলো সমুদ্রে স্থাপন করা হবে, যেখানে বড় হয়ে তারা ঝিনুকের প্রাকৃতিক আবাসস্থল তৈরি করবে। এতে স্ক্যালপ, শামুক, শৈবাল, সামুদ্রিক উদ্ভিদসহ বহু প্রজাতির প্রাণী বসবাস করতে পারবে।
অর্কনি ও শেটল্যান্ডের সংসদ সদস্য আলিস্টার কারমাইকেল এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “ঐতিহাসিক বন্যপ্রাণী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক, বিশেষ করে যদি একই সঙ্গে কার্বন শোষণের সুযোগ থাকে।”
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিন জু এরমগাসেন বলেন, ঝিনুকের সংখ্যা এত কমে গেছে যে মানব হস্তক্ষেপ ছাড়া অনেক এলাকায় তারা আর পুনরুদ্ধার হতে পারে না। তাই এই ধরনের প্রকল্প সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনর্গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।















