সাইফ হাসান: লন্ডনে গত এক বছরে আধুনিক দাসত্বের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সরকারি নতুন পরিসংখ্যানে জানা গেছে। ক্রিশ্চিয়ান নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন কীভাবে দুষ্কৃতকারীরা বন্ধু সেজে তার জীবন ও বসতবাড়ি তছনছ করে দিয়েছিল। তাকে দিয়ে জোরপূর্বক মাদক পাচার করানোর মতো জঘন্য অপ*রাধ সংঘটিত করা হয়েছে এবং এক পর্যায়ে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। হেস্টিয়ার মতো সংস্থাগুলো বর্তমানে শোষণের শিকার এমন ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর কাজ করছে।
লন্ডনে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে আধুনিক দাসত্বের অভিযোগ ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭১টিতে। ক্রিশ্চিয়ান নামের একজন ভুক্তভোগী জানান যে প্রথমে অপরাধীরা তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে আস্থা অর্জন করে এবং পরে তার ঘর দখল করে মাদক ব্যবসা শুরু করে।
ক্রিশ্চিয়ান বলেন যে তিনি বুঝতে পারেননি তার বন্ধুরা অপরাধী ছিল কারণ তারা দেখতে ছিল খুব সাধারণ পারিবারিক মানুষের মতো। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা তার ঘরে জোর করে চাবি বানিয়ে ঢুকে পড়ে এবং তাকে দিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বিদেশে অবৈধ কাজ করাতে পাঠায়।
পরিবেশ ও পরিস্থিতির চাপে ক্রিশ্চিয়ান তার সাজানো সুন্দর ঘরটি হারিয়ে এক পর্যায়ে পুরোপুরি হোমলেস হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি একটি সেফ হাউসে জীবন কাটাচ্ছেন এবং তার নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে পরিবার থেকে অনেক দূরে রাখা হয়েছে।
হেস্টিয়া নামের সেবামূলক সংস্থাটি জানিয়েছে যে লন্ডনের প্রতিটি এলাকাতেই এখন এমন আধুনিক দাসত্বের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে একা থাকা মানুষদের টার্গেট করে অপরাধীরা বন্ধুত্বের ছলনা করে তাদের জীবন ও সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে জানিয়েছে যে তারা সিস্টেমটিকে আরও কঠোর করার পরিকল্পনা করছে। ক্রিশ্চিয়ান এখন কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছেন এবং অচিরেই নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে একটি স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
#লন্ডন #দাসত্ব #অপরাধ #aknews #onebanglanews















