এপস্টাইন ফাইলে যুক্তদের বি*রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাজ্যে বিশেষ পুলিশি দল

59

সাইফ হাসান: ধনকুবের জেফরি এপস্টাইনের পাচার চক্রের সাথে ব্রিটেনের যোগসূত্র তদন্ত করতে একটি জাতীয় পুলিশ গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নথিপত্র প্রকাশের পর প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ একাধিক প্রভাবশালীর বি*রুদ্ধে গুরুতর অ*পরাধের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশটির বেশ কয়েকটি পুলিশ বাহিনী সমন্বিতভাবে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত যৌন অ*পরাধ দমনে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি নথিপত্রগুলো যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত লাখ লাখ নথিতে জেফরি এপস্টাইনের নারী পাচার এবং তার ক্ষমতাধর বন্ধুদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে টেমস ভ্যালি পুলিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের বি*রুদ্ধে ওঠা দুটি পৃথক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। সারে পুলিশও এই সাবেক রাজপুত্রের বি*রুদ্ধে আনা অন্য একটি অভিযোগের প্রাথমিক মূল্যায়ন শুরু করেছে। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই তার বি*রুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশও এই সমন্বিত তদন্ত দলের অংশ হিসেবে কাজ করছে। তারা লেবার সরকারের সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের বি*রুদ্ধে এপস্টাইনকে তথ্য পাচারের অভিযোগ নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া লুটন এবং স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দর এপস্টাইনের পাচার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এই বিষয়ে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে এই জাতীয় সমন্বয় গ্রুপটি মূলত বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করবে। প্রায় এক দশক আগে জিমি স্যাভিলের কেলেঙ্কারির সময় যেভাবে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এটিও অনেকটা তেমনই। বর্তমানে প্রতিটি বাহিনী নিজস্বভাবে তদন্ত পরিচালনা করলেও প্রয়োজনে এটি একটি জাতীয় অপারেশনে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্তকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে মূল নথিপত্র পাওয়ার চেষ্টা করছেন যেন প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়। টেমস ভ্যালি পুলিশ বিশেষ করে ২০১০ সালে উইন্ডসরে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাথে এপস্টাইনের পাঠানো এক নারীর সম্পর্কের বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে সংবাদমাধ্যমে আসা সব অভিযোগই শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবুও ব্রিটেনের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জনমনে আস্থা ফেরাতে এই ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

#যুক্তরাজ্য #তদন্ত #প্রিন্সঅ্যান্ড্রু #aknews #onebanglanews