যুক্তরাজ্যে চোখের রোগ গ্লুকোমা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞরা

78

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে চোখের নীরব ঘাতক গ্লুকোমা নিয়ে বড় ধরণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৬০ সালের মধ্যে দেশটিতে এই রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৬ লাখে পৌঁছাবে যা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি। বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়াকে এর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্ধত্ব থেকে বাঁচতে এখন থেকেই নিয়মিত চোখ পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথালমোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ১১ লাখ মানুষ গ্লুকোমায় আক্রান্ত। ২০৬০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১৬ লাখে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষকরা একে ‘ডেমোগ্রাফিক টাইমবোম্ব’ বা বড় ধরণের জনতাত্ত্বিক ঝুঁকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মূলত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণেই এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৩ শতাংশ এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সীদের ১১ শতাংশ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ও ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে এই ঝুঁকি আরও কিছুটা বেশি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

মুরফিল্ডস আই হসপিটালের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পল ফস্টার জানান, গ্লুকোমা প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না, তাই একে নীরব ঘাতক বলা হয়। এটি ধীরে ধীরে চোখের স্নায়ু নষ্ট করে দেয়, ফলে নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়া এটি ধরা কঠিন। তিনি মধ্যবয়সী সবাইকে বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা যায়।

গ্লুকোমা ইউকের প্রধান জোয়ান ক্রেইটন বলেন, বর্তমানে অনেকেই জানেন না যে তারা অজান্তেই এই রোগে আক্রান্ত। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি চিরস্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে। তাই ভবিষ্যতের বিপর্যয় এড়াতে এবং মানুষের দৃষ্টিশক্তি বাঁচাতে এখন থেকেই স্বাস্থ্যসেবা খাতকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

#যুক্তরাজ্য #স্বাস্থ্য #চোখের_যত্ন #গ্লুকোমা #aknews #onebanglanews