সাইফ হাসান: লন্ডনে পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের সেবা করেও হাজার হাজার মানুষ সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কেবল তথ্যের অভাবে। অনেকেই জানেন না যে তারা ‘আনপেইড কেয়ারার’ হিসেবে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, ফলে তাদের একটি বড় অংশ এখন দারিদ্র্যের শিকার। সিটি হলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জটিল আবেদন প্রক্রিয়া এবং সচেতনতার অভাবেই প্রাপ্য টাকা হারাচ্ছেন এই সেবাদানকারীরা। এই সংকট কাটাতে এখনই ব্যাপক প্রচার চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লন্ডনের ২৯ শতাংশ অবৈতনিক কেয়ারার বা সেবাদানকারী বর্তমানে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন, যা সাধারণ লন্ডনবাসীদের চেয়ে অনেক বেশি। অনেকেই জানেন না যে তারা সপ্তাহে ৮৩.৩০ পাউন্ড পর্যন্ত ‘কেয়ারার্স অ্যালাউন্স’ পাওয়ার যোগ্য। অসুস্থ সঙ্গী বা সন্তানকে দেখভাল করলেও নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেয়ারার’ মনে না করায় অনেকেই এই আবেদনের কথা চিন্তাও করেন না।
ব্রমলি থার্ড সেক্টর এন্টারপ্রাইজের সিইও ডেভিড ওয়াকার লন্ডন অ্যাসেম্বলিকে জানান, যারা স্বজনদের সেবা করছেন তাদের অনেকেই প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে অন্ধকারে আছেন। তিনি বলেন, সমাজকর্মীদের উচিত যারা অন্যের সেবা করছেন তাদের এই সরকারি সুবিধার কথা নিজ দায়িত্বে জানানো, কারণ আবেদন ফরমগুলো এতই জটিল যে ৯৮ শতাংশ মানুষ তা পূরণ করতে অন্যের সাহায্য নিতে বাধ্য হন।
বার্নেট কেয়ারার্সের সিইও মাইক রিচ জানান, সেবাদানকারীদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও স্বচ্ছ তথ্যের অভাবে তারা সাহায্য পাচ্ছেন না। এছাড়া ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৬৯টি কাউন্সিল তাদের ওয়েবসাইটে ভুল তথ্য প্রদর্শন করায় অনেকে কাউন্সিল ট্যাক্স ছাড় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে এক রিপোর্টে উঠে এসেছে।
এনফিল্ড কেয়ারারস সেন্টারের কার্লা ব্রেইন মনে করেন, সিটি হলের পক্ষ থেকে একটি জোরালো সচেতনতামূলক প্রচার এই মানুষদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই সেবাদানকারীদের অবদানকে সম্মান করেন এবং তাদের সহায়তার জন্য ‘কস্ট অফ লিভিং হাব’-এর মাধ্যমে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
#LondonNews #CarersSupport #CostOfLiving #UnpaidCarers #aknews #onebanglanews















