সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করার নতুন এক বিতর্কিত নিয়ম সোমবার থেকে কার্যকর হচ্ছে। কেন্টের ম্যানস্টন সেন্টারে আসা অভিবাসীদের দেহ তল্লাশিসহ প্রয়োজনে তাদের মুখের ভেতরও ছোট কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রক্রিয়াকে অমানবিক ও গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারের পরিপন্থী বলে কড়া সমালোচনা করেছেন। মূলত মানব পাচারকারী চক্রের তথ্য সংগ্রহ এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কেন্টের ম্যানস্টন প্রসেসিং সেন্টারে আসা অভিবাসীদের কাছ থেকে কোনো গ্রেফতার ছাড়াই মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে পারবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বরে বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাকসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন আইনটি পাশ হওয়ার পর এখন কর্মকর্তাদের বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে আসা মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন ফ্রিডম ফ্রম টর্চার-এর পরিচালক নাতাশা সাঙ্গারিডস এই পদ্ধতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে ভয়াবহ সাগর পাড়ি দিয়ে আসা আতঙ্কিত নারী ও শিশুদের পোশাক বা মুখ তল্লাশি করা অত্যন্ত অমানবিক। এই আইনটি শরণার্থীদের অধিকার ও গোপনীয়তাকে অবমাননা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উইলসন সলিসিটরস-এর আইনজীবী জোনাহ মেন্ডেলসন এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মনে করেন উপযুক্ত তদারকি ছাড়া এই ধরনের তল্লাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রয়োগ করার সম্ভাবনা থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সীমান্ত মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস অবশ্য দাবি করেছেন যে পাচারকারী গ্যাংদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতেই এই আইন করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ হাজারেরও বেশি অভিবাসী নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে যা দেশটির জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ। সরকার আগামী মাসগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলের খরচ কমাতেও সামরিক ঘাঁটিতে তাদের পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।
#যুক্তরাজ্য #আশ্রয়প্রার্থী #লন্ডননিউজ #aknews #onebanglanews















