সাইফ হাসান: ব্রিটেনে অর্ধেকের বেশি থেরাপিস্ট জানিয়েছেন যে মানুষের মধ্যে প*র্ন ব্যবহারের আসক্তি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এই আসক্তির কারণে অনেকেই তাদের পারিবারিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এই সমস্যা নিরসনে একটি জাতীয় নীতিমালা এখন সময়ের দাবি। আসক্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় সামাজিক লজ্জার কারণে সাহায্য চাইতে পারেন না। ফলে তারা দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কাউন্সেলিং অ্যান্ড সাইকোথেরাপি বা বিএসিপি প্রায় তিন হাজার থেরাপিস্টের ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। সেখানে দেখা গেছে যে অন্তত ৫৩ শতাংশ বিশেষজ্ঞ গত এক বছরে মানুষের মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত পর্ন দেখার প্রবণতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে সাধারণ ব্যবহার থেকে শুরু হয়ে এটি ধীরে ধীরে চরম আসক্তির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।
যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডক্টর পলা হল জানান যে এই আসক্তি সব বয়সের মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনেকে আসক্তির কারণে শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। আসক্তির ফলে মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজ এবং পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে যা দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই সমস্যা সমাধানে কেবল পর্ন বিরোধী প্রচারণাই যথেষ্ট নয় বরং এর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে সাহায্য নিতে ভয় পাচ্ছেন যা তাদের আরও বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। নটিংহ্যামের থেরাপিস্ট অ্যান্ড্রু হার্ভে জানান যে ইন্টারনেটে পর্ন দেখার কারণে অনেকের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ডক্টর হল পিভোটাল রিকভারি নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন যেখানে আসক্ত ব্যক্তিরা প্রাথমিক সহায়তা পেতে পারেন। তরুণদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিসোর্স তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
#যুক্তরাজ্য #পর্নআসক্তি #ব্রিটেননিউজ #aknews #onebanglanews















