সাইফ হাসান: হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট টাইটানিক সিনেমার আকাশচুম্বী সাফল্যের পর তার জীবনের কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। জেমস ক্যামেরনের সেই কালজয়ী ছবিতে অভিনয়ের পর তাকে মিডিয়ার ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাপারাজ্জিদের অনধিকার চর্চার মুখে পড়তে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি তার প্রথম পরিচালিত সিনেমা গুডবাই জুন এর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই নতুন পথচলায় একজন নারী নির্মাতা হিসেবে তাকে যে সব চ্যালেঞ্জ ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাও অকপটে জানিয়েছেন এই অস্কারজয়ী তারকা।
কেট উইন্সলেটের পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘গুডবাই জুন’ আগামী ২৫ ডিসেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন তার ছেলে জো অ্যান্ডার্স। কেট জানান যে শুরুতে তিনি শুধু অভিনয় ও প্রযোজনার কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে নেটফ্লিক্সের অনুরোধে এবং চমৎকার সব শিল্পীদের সাথে কাজ করার লোভে তাকে পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়।
টাইটানিক সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর কেটকে অনেক মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তিনি জানান যে সেই সময় পাপারাজ্জিরা তার ফোনে আড়ি পাতত এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করত। এমনকি শৈশব থেকেই তার শরীরের গঠন নিয়ে নানা কটূক্তি করা হতো এবং খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছেও তাকে বডি শেমিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
পরিচালক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কেটকে বাজেট সংকটের মতো বেশ কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন যে নারী নির্মাতাদের যোগ্যতা নিয়ে অনেক সময়ই পুরুষদের তুলনায় বেশি প্রশ্ন তোলা হয় যা একেবারেই অনভিপ্রেত। এই সিনেমায় তার সাথে আরও অভিনয় করেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী হেলেন মিরেন, টনি কোলেট এবং জনি ফ্লিন।
পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত এই ছবির শুটিং চলাকালীন সব শিল্পীরা মিলে একটি সত্যিকারের পরিবারের মতো হয়ে উঠেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে পরিচালক স্যাম মেন্ডেজের সাথে বিবাহবিচ্ছেদ ও নিউইয়র্কের রাস্তায় পাপারাজ্জিদের তাড়া করার স্মৃতিও তিনি রোমন্থন করেন। পঞ্চাশ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান যে ভবিষ্যতে তিনি হয়তো আর পরিচালনার কাজ করবেন না তবে ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকবেন।
#কেটউইন্সলেট #টাইটানিক #হলিউড #বিনোদন #নেটফ্লিক্স












