সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন রেকর্ড সংখ্যক বিদেশি চিকিৎসক। গত এক বছরে এই প্রস্থান বেড়েছে ২৬ শতাংশ। অভিবাসী-বিদ্বেষ ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিকূলতার কারণেই এই প্রবণতা। এর ফলে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য পরিষেবা এনএইচএস (NHS) গভীর সংকটের মুখে। চিকিৎসকদের এই ব্যাপক চলে যাওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে বিশাল শূন্যতা তৈরি হচ্ছে।
জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিল (জিএমসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অন্য দেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মোট ৪,৮৮০ জন চিকিৎসক যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন। যা ২০২৩ সালের ৩,৮৬৯ জনের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। এই রেকর্ড সংখ্যক প্রস্থান ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (এনএইচএস)-এর কর্মী বাহিনীতে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এনএইচএস প্রভাইডর্সের প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল এলকেলিস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এতজন দক্ষ ও মূল্যবান আন্তর্জাতিক চিকিৎসকের চলে যাওয়া এনএইচএস-এর পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বজুড়ে মেধাবী কর্মীদের নিয়োগের মাধ্যমেই এনএইচএস এতদিন টিকে ছিল এবং এর বৈচিত্র্যই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ার ডা. অমিত কোছার মন্তব্য করেন যে, অভিবাসী-বিরোধী লাগাতার প্রচারণার কারণেই অনেক বিদেশি চিকিৎসক যুক্তরাজ্যে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও এই মাসে ব্রিটেনে ১৯৭০-৮০ এর দশকের মতো বর্ণবাদের পুরনো ধারার ফিরে আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এনএইচএস কর্মীবাহিনীর ৪২ শতাংশই বিদেশি যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়ায় এই প্রস্থান অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ। জিএমসি-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেনে নতুন করে আসা বিদেশি চিকিৎসকের সংখ্যাও স্থির হয়ে গেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃদ্ধি।
বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্তরাজ্যে কাজ পেতেও এখন সমস্যা হচ্ছে। গত বছর নতুন নিবন্ধিত চিকিৎসকদের মধ্যে মাত্র আটজনের মধ্যে একজন ছয় মাসের মধ্যে এনএইচএস-এ চাকরি পেয়েছেন, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। জিএমসি-এর প্রধান নির্বাহী চার্লি ম্যাসি সতর্ক করে বলেছেন, যদি দেশটিকে কম স্বাগত জানানোর মতো মনে হয়, তবে সেরা আন্তর্জাতিক প্রতিভা অন্য কোথাও চলে যেতে পারে।
#এনএইচএসসংকট #বিদেশীডাক্তার #যুক্তরাজ্য #অভিবাসীবিদ্বেষ #চিকিৎসকপ্রস্থান














