সেই তালিবান হা*মলার আতঙ্ক: নতুন বইয়ে মালালার পিটিএসডি

119

সাইফ হাসান: শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই তার নতুন বই ‘ফাইন্ডিং মাই ওয়ে’-তে প্রথমবারের মতো নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তালিবানদের সেই ভয়াবহ হা*মলার পর তিনি পিটিএসডি-তে ভুগেছিলেন। ২০১২ সালে পাকিস্তানে গু*লিবিদ্ধ হওয়ার পর বার্মিংহামে তার চিকিৎসা হয়। প্রথমে থেরাপি না নিলেও, অক্সফোর্ডে পড়ার সময় তিনি থেরাপি নিতে শুরু করেন। এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি অন্যদেরও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন করতে চান।

মালালাকে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেয়েদের শিক্ষার পক্ষে কথা বলার জন্য পাকিস্তানে তালিবানদের হামলার শিকার হতে হয়েছিল। একটি স্কুল বাসে জঙ্গিরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, এতে তিনি এবং তার দুই বন্ধু গুরুতর আহত হন। বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ (কিউই) হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি সেরে ওঠেন।

চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে ট্রমা থেরাপির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি জানান, পাকিস্তানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা কুসংস্কার থাকায় তিনি প্রথমে থেরাপি নিতে চাননি। কিন্তু ঘটনার সাত বছর পর, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একটি ঘটনায় তার পুরোনো আতঙ্ক (ফ্ল্যাশব্যাক) ফিরে আসে এবং তিনি প্যানিক অ্যাটাকে ভুগতে শুরু করেন। এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি কাউন্সেলিং শুরু করেন।

২৮ বছর বয়সী মালালা বিবিসিকে বলেছেন, এই নতুন বইটি তার বেড়ে ওঠার গল্প। এখানে তিনি কলেজ জীবন, বন্ধুত্ব, প্রেম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি আশা করেন, যারা একাকীত্ব বা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, এই বইটি পড়লে তারা জানবেন যে তারা একা নন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়কে তিনি এই বিষয়ে সচেতন করতে চান।

মালালা তার নতুন বইয়ের প্রচারণার জন্য বার্মিংহামে ফিরছেন, যেখানে তার বাবা-মা এখনও থাকেন। শহরের ওয়াটারস্টোনস বইয়ের দোকানে তিনি পাঠকদের জন্য বইতে স্বাক্ষর করবেন। তিনি বার্মিংহামকে তার “দ্বিতীয় বাড়ি” বলে মনে করেন এবং শহরের মানুষের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

#মালালাইউসুফজাই #ফাইন্ডিংমাইওয়ে #মানসিকস্বাস্থ্য #পিটিএসডি #বার্মিংহাম