জেলখানায় জায়গা নেই, ইংল্যান্ডে ৪০ হাজার বন্দির আগাম মুক্তি

171

সাইফ হাসান: ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের জেলখানায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি হয়ে যাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ ব্যবস্থার অধীনে গত সেপ্টেম্বর থেকে জুনের মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার বন্দিকে তাড়াতাড়ি মুক্তি দেওয়া হয়েছে। লেবার সরকার এই স্কিম চালু করে। তবে এই আগাম মুক্তির ফলে নানা সমস্যাও তৈরি হচ্ছে, এমনকি ভুলবশত ভয়ঙ্কর অপ*রাধীও ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। বন্দিদের আবার জেলে ফেরার হারও বেড়েছে।

সরকারি হিসাব বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩৮,০৪২ জন বন্দিকে এই স্কিমের আওতায় মুক্তি দেওয়া হয়। গত বছর লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই জরুরি ব্যবস্থা চালু করে। তৎকালীন বিচার সচিব শাবানা মাহমুদ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

নতুন এই নিয়মে, কিছু বন্দিকে তাদের সাজার ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ শতাংশ ভোগ করার পরই মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এটি পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারের চালু করা আরেকটি স্কিমকে প্রতিস্থাপন করেছে। আগের সেই স্কিমে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩,৩২৫ জন মুক্তি পেয়েছিল।

তবে এই আগাম মুক্তির ফলে ‘রিকল’ বা লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে পুনরায় জেলে ফেরার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে ১১ হাজারের বেশি বন্দিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সম্প্রতি হাদুশ কেবাতু নামে এক অভিবাসী যৌন অপরাধীকে ভুলবশত মুক্তি দেওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

কারাগারের প্রধান পরিদর্শক চার্লি টেইলর বলেছেন, অনভিজ্ঞ কর্মীদের ওপর কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিচার মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা একটি সংকটময় কারাগার ব্যবস্থা পেয়েছিলেন এবং জনগণের নিরাপত্তাই তাদের কাছে প্রধান। সরকার নতুন করে ১৪,০০০ কারাগারের স্থান তৈরি করছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে গত এক বছরে মৃত্যুর হার এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সাথে কারাগারের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও নতুন শিখরে পৌঁছেছে।

#ইংল্যান্ড #কারাগার #বন্দিমুক্তি #যুক্তরাজ্য #আগামমুক্তি