জীবন বাঁচানো হাসপাতালে পদক হাতে ফিরল কিশোর সাঁতারু চ্যাম্পিয়ন

130

সাইফ হাসান: জন্মের মাত্র সাড়ে ছয় দিনের মাথায় যে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জটিল অপারেশনে তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন, ১৫ বছর পর সেখানেই নিজের সাঁতারের পদক নিয়ে হাজির হলো অ্যাশবি। জন্মগত এক মারাত্মক ত্রুটির কারণে তার বাঁচার সম্ভাবনাই ছিল ক্ষীণ। কিন্তু সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে সেই অ্যাশবিই এখন একজন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু। নিজের এই সাফল্য সেই চিকিৎসক ও হাসপাতালের সাথে ভাগ করে নিতেই তার এই আবেগঘন প্রত্যাবর্তন।

অ্যাশবির মা সারাহ জানান, জন্মের সময়ই তিনি বুঝতে পারেন কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন, অ্যাশবির ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদাতে একটি ছিদ্র রয়েছে, যার ফলে তার পাকস্থলী এবং কিডনি বুকের ভেতর ঢুকে হার্ট ও ফুসফুসকে চেপে ধরেছিল। এরপর তাকে দ্রুত ব্রিস্টল রয়্যাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সারাহ সেই সময়ের কথা মনে করে বলেন, “দিনগুলো ছিল আমাদের জন্য ভয়ংকর মানসিক কষ্টের। অপারেশনের পর সার্জন যখন আমাদের বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে সম্মতি জানালেন, আমার স্বামী জেমস স্বস্তিতে মাটিতে বসে পড়েছিল।” অপারেশনের পর অ্যাশবিকে বেশ কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল এবং প্রায় সাড়ে তিন সপ্তাহ পর সে বাড়ি ফিরতে পারে।

এখন অ্যাশবি একজন সফল সাঁতারু। সে জানায়, সাঁতারের সময় তার শরীরের অপারেশনের দাগ দেখে অনেকেই প্রশ্ন করে। তবে সে সহজভাবেই সবাইকে নিজের ছোটবেলার কথা খুলে বলে। হাসপাতালের চিকিৎসক মার্টিন গারগান বলেন, “জীবনের শুরুতে এত বড় ধাক্কা সামলে অ্যাশবির এই সাঁতারের সাফল্য সত্যিই অসাধারণ এবং অনুপ্রেরণার।”