সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে সামাজিক আবাসনের অপেক্ষায় থাকা মানুষদের জন্য নির্মিত হচ্ছে এক হাজার নতুন ঘর। স্থানীয় মেয়র রিচার্ড পার্কার জানিয়েছেন, সরকার নতুন নীতিমালা শিথিল করায় এখন ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড তহবিল সরাসরি ব্যবহার করা যাবে এসব ঘর নির্মাণে। আগে এই অর্থ শুধু পুরোনো শিল্পাঞ্চল পরিষ্কার ও ডেভেলপমেন্টের জন্যই ব্যয় করা যেত। বর্তমানে অঞ্চলের সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ পরিবারের সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি।
মেয়র পার্কার জানান, এই “সোশ্যাল হাউজিং অ্যাক্সিলারেটর ফান্ড” প্রকল্পের লক্ষ্য হলো নির্মাণাধীন বা ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকা ঘরগুলোকে সামাজিক ভাড়ার ঘর হিসেবে রূপান্তর করা। এটি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা হবে। তিনি বলেন, “নিয়ম-নীতি সহজ করা হয়েছে যাতে দ্রুত নতুন ভাড়ার ঘর সরবরাহ করা যায় এবং অপেক্ষমাণ তালিকা কমানো যায়।”
কোভেন্ট্রির বাসিন্দা ডেভিড হপার বলেন, দুই বছর ছয় মাস গৃহহীন থাকার পর নতুন বাসা পেয়ে তাঁর জীবন বদলে গেছে। ৪২ বছর বয়সী এই ব্যক্তি জানান, “মায়ের মৃত্যুর পর জীবন ভেঙে পড়েছিল, নিজের ঘর না থাকায় নতুন করে শুরু করতে পারছিলাম না। এখন অন্তত জানি, কম ভাড়ায় আমার নিজের মাথার ওপর একটা ছাদ আছে।”
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস কম্বাইন্ড অথরিটি জানিয়েছে, বর্তমানে অঞ্চলে ৭ হাজারের বেশি পরিবার ও প্রায় ১৫ হাজার শিশু অস্থায়ী আবাসনে বসবাস করছে। মেয়র পার্কার এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত ২ হাজার সামাজিক ঘর নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অঞ্চলের বৃহত্তম হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন ‘মিডল্যান্ড হার্ট’-এর কর্মকর্তা জ্যাক কেলি নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অর্থ ভাড়া কমাতে সহায়তা করবে, কিন্তু একই সঙ্গে পুরনো ঘরগুলোর মানোন্নয়নেও আরও কাজ করা দরকার। মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করে—এটা সরবরাহের সংকট, যা একসাথে মোকাবিলা করতে হবে।”















