যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমছে, তবু নাগরিকদের উদ্বেগ ইতিহাসের শীর্ষে

95

সাইফ হাসান: সরকারি হিসেবে দেখা যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমছে। কিন্তু দেশজুড়ে এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। ১৯৭৪ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে নাগরিকদের দুশ্চিন্তা। সংখ্যায় শীর্ষে শিক্ষার্থী আর কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসাধারীরাই। তবে সাম্প্রতিক নীতির কারণে ভিসা কমছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও কেয়ার সেক্টরে।

গত আগস্টে জরিপ প্রতিষ্ঠান ইপসস জানিয়েছে, ব্রিটেনের প্রায় অর্ধেক মানুষ অভিবাসনকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখছেন। এর আগে শুধু ২০১৫ সালের ইউরোপীয় শরণার্থী সংকটের সময় এমন উচ্চ উদ্বেগ ধরা পড়েছিল। এবারের গ্রীষ্মে আশ্রয়কেন্দ্র ঘিরে বিক্ষোভ, সরকারি ঘোষণা আর রিফর্ম পার্টির সম্মেলন এই বিষয়টিকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্যে দেখা যায়, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর নেট মাইগ্রেশন গড়ে ২ থেকে ৩ লাখের মধ্যে ছিল। তবে ব্রেক্সিটের পর এ সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। ২০২৪ সালে নেট মাইগ্রেশন অর্ধেকে নেমে আসে এবং নতুন নিয়মে তা আরও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও কেয়ার ভিসা, আফগান মানবিক কর্মসূচি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসাদের সংখ্যা হ্রাসই বড় কারণ।

সবচেয়ে বেশি ভিসা পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা, যা মোট প্রবাহের প্রায় ৪৭ শতাংশ। এ ছাড়া কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবার ১১ শতাংশ। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নৌকা বা আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা মোট প্রবাহের ৫ শতাংশেরও কম।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক মাদেলেইন সাম্পশন বলেছেন, অভিবাসীদের কর্মসংস্থান হার ভিন্ন ভিন্ন হলেও তা স্থানীয়দের কাছাকাছি। হোম অফিসের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পরিবারভিত্তিক ভিসায় আসা প্রায় অর্ধেক মানুষও আয়ের রেকর্ড রেখেছেন। নির্ভরশীলদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অংশ কর্মরত।

তবে নতুন অভিবাসীদের মধ্যে শরণার্থী বা মানবিক ভিসাধারীরাই সবচেয়ে কম কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসীদের আয়ের হার দ্রুত বাড়ছে এবং ২০২৪ সালে ইউরোপের বাইরের নতুন অভিবাসীরা স্থানীয়দের সমপরিমাণ আয় করেছেন। ফলে তারা দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে—এমন দাবি এখনো প্রমাণিত হয়নি।