সাইফ হাসান: পূর্ব লন্ডনে গ্যাং সংঘর্ষের প্রতিশোধ নিতে চালানো গুলিতে গুরুতর আহত হয় এক শিশু। নয় বছরের মেয়েটির মাথায় আটকে যায় গুলি, এখনও চলছে চিকিৎসা। গুলির ঘটনায় তিন পুরুষও হামলার শিকার হয়। অভিযুক্ত জ্যাভন রাইলিকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত দিলেন দীর্ঘ ৩৪ বছরের সাজা। এখনো মূল হামলাকারী বন্দুকধারী পলাতক রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের মে মাসে, লন্ডনের ডালস্টনের কিংসল্যান্ড হাই স্ট্রিটে। ইভিন রেস্তোরাঁয় পরিবারের সঙ্গে আইসক্রিম খেতে গিয়েছিল নয় বছরের শিশু। ঠিক তখনই মোটরবাইক থেকে ছোড়া প্রথম গুলিটি তার মাথায় লাগে। মোট ছয়টি গুলি ছোড়া হয়েছিল।
রাইলি ছিলেন পালানোর গাড়ির চালক। পাশাপাশি তিনি পরিকল্পনা, লক্ষ্য ঠিক করা এবং হামলাকারীকে সহায়তার ভূমিকা পালন করেন। প্রসিকিউশন জানায়, হ্যাকনি টার্কস ও টটেনহ্যাম টার্কস নামের দুই গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরেই এই হামলা ঘটে। গুলিবিদ্ধ তিন ব্যক্তি — মুস্তাফা কিজিলতান, কেনান আয়দোগদু ও নাসের আলি — ছিলেন হ্যাকনি টার্কসের সঙ্গে যুক্ত।
বিচারক মার্ক লুক্রাফ বলেন, রাইলি মূল পরিকল্পনাকারী ও ‘স্পটার’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি এটিকে প্রতিশোধমূলক হামলা বলে উল্লেখ করেন। আদালতে শিশুটির মায়ের বক্তব্য শোনানো হয়, যেখানে বলা হয় তাদের কন্যার আনন্দময় জীবন এখন ভেঙে গেছে চিকিৎসা, যন্ত্রণা আর সীমাবদ্ধতায়।
পুলিশ জানায়, এখনো বন্দুকধারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তথ্য দিতে পারলে ১৫ হাজার পাউন্ড পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। এদিকে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জামাইকা-জন্ম রাইলির অতীত অপরাধের ইতিহাস—গাড়ি চুরি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে অস্ত্র রাখার অভিযোগে একাধিক দণ্ড।
তদন্ত কর্মকর্তা জোয়ানা ইয়র্ক বলেন, রাইলির কাজ একটি শিশুর জীবনকে চিরদিনের মতো বদলে দিয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেও সেই পরিবার যে যন্ত্রণা পেয়েছে, তা আর কোনো দিন মুছে যাবে না।















