ব্রিটেনে ওষুধ বিক্রি কঠিন, সানোফির কর্মকর্তার হুঁশিয়ারি—বড় বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছে ওষুধ কোম্পানিগুলো

41

সাইফ হাসান: ব্রিটেনকে ওষুধ বিক্রির জন্য ‘ভয়াবহ জায়গা’ আখ্যা দিলেন ফরাসি ওষুধ কোম্পানি সানোফির কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এখানে গবেষণা ব্যয়বহুল, কিন্তু বাজার অপ্রতিযোগিতামূলক। এনএইচএসে ওষুধ খাতে ব্যয় কমছে, অন্যদিকে ইউরোপ ও আমেরিকায় বাড়ছে। বড় বড় কোম্পানি যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ স্থগিত করছে। জরুরি ভিত্তিতে সরকারি পরিকল্পনা না এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

সানোফির যুক্তরাজ্য প্রধান পল নাইশ শুক্রবার বলেন, দেশটি এখন এক ‘সঙ্কটপূর্ণ মোড়ে’ দাঁড়িয়ে। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞানীরা বিশ্বমানের হলেও ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এখানে পরিবেশ প্রতিকূল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটি পরিচালনার জন্য ব্যয়বহুল এবং ওষুধ বিক্রির জন্য ভয়াবহ।”

গত সপ্তাহে মার্কিন কোম্পানি মার্ক (এমএসডি) লন্ডনে নির্মাণাধীন এক বিলিয়ন পাউন্ডের গবেষণা কেন্দ্র বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্যের সরকার ঘোষিত ‘অর্থনীতির মুকুট রত্ন’ খাতের জন্য বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইভাবে সানোফি গত বছর কেমব্রিজের ল্যাব বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে স্থানান্তর করেছে।

বর্তমানে সানোফি বছরে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করলেও যুক্তরাজ্যে তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পরিকল্পনায় তারা আশাবাদী হলেও বড় ধরনের বিনিয়োগ স্থগিত থাকবে যতদিন না বৈজ্ঞানিক পরিবেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়।

সরকারি দ্বন্দ্বকেও বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন নাইশ। তার মতে, স্বাস্থ্য বিভাগ ট্রেজারির কাছে প্রয়োজনীয় বাজেট আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে, আর ব্যবসা ও বিজ্ঞান বিভাগ কেবল সহানুভূতি প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, “ট্রেজারিকে অবশ্যই অন্য বিভাগ নিয়ে বসে স্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে, কিভাবে অন্য দেশের মতো ওষুধ খাতে ব্যয় বাড়ানো যায়।”

বর্তমানে ব্রিটেনে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের মাত্র ৯% যায় ওষুধে। অথচ জার্মানিতে এ হার ১৪%, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫%, ইতালি ও স্পেনে ১৭%। দাম নির্ধারণকারী সংস্থা নাইসের সীমা ১৯৯৯ সালের পর থেকে বাড়েনি। শিল্প খাত বলছে, মুদ্রাস্ফীতির সাথে মিলিয়ে তা হালনাগাদ করতে হবে এবং এনএইচএসে আয় থেকে ফেরত দেওয়ার হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে হবে।

ইতোমধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ব্রিটেন শাখা প্রধানও একই দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে আমেরিকান কোম্পানি ইলি লিলি লন্ডনে নতুন গেটওয়ে ল্যাবের পরিকল্পনা থামিয়ে দিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক পরিবেশ উন্নত না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিতে যাবে না।

অক্সফোর্ডের সাবেক অধ্যাপক স্যার জন বেল সতর্ক করে বলেছেন, ব্রিটেনে বিনিয়োগ বন্ধ করবে আরও বড় ফার্মা কোম্পানি। এতে দেশটির ওষুধ শিল্প ও গবেষণা খাত গুরুতর ধাক্কা খেতে পারে।