সাইফ হাসান: লন্ডনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে শনিবার বিক্ষোভ হলে গণগ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। নিষিদ্ধ এই গোষ্ঠীর সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বা পোস্টার প্রদর্শনকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ৩০০ ইহুদি ব্যক্তিত্ব প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নিতে পারেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, শনিবার ওয়েস্টমিনস্টারে ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস নামে একটি গ্রুপ প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। এতে শত শত মানুষ “আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সমর্থন করি” লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নিতে পারেন। পুলিশের মুখপাত্র বলেন, “আমরা বড় আকারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় অভিজ্ঞ। প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে আমরা আইন প্রয়োগ করে আসছি। এই গোষ্ঠীর সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।” গত মাসে এই গোষ্ঠী আরএএফ ব্রিজ নর্টনে ৭০ লাখ পাউন্ডের ক্ষতি করায় গৃহসচিব ইভেট কুপার এটিকে নিষিদ্ধ করেন।
৩০০ ইহুদি ব্যক্তিত্ব, যার মধ্যে পরিচালক মাইক লি, লেখক মাইকেল রোজেন, আইনজীবী জিওফ্রে বিন্ডম্যান এবং নাট্যকার জিলিয়ান স্লোভো রয়েছেন, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ও গৃহসচিবের কাছে চিঠি পাঠাবেন। তারা বলেন, “প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের নিষেধাজ্ঞা অবৈধ এবং অনৈতিক। গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে হত্যাযজ্ঞ ও কষ্ট নিয়ে সরকারের দ্বিধা এবং ইসরায়েলের প্রতি নীরব সমর্থন বন্ধ হওয়া উচিত।” জুইশ ভয়েস ফর লেবারের নেতৃত্বে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে।
ডিফেন্ড আওয়ার জুরিসের মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা পুলিশ বা আদালত ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করিনি। আমাদের বিক্ষোভ প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের দ্বারা সংগঠিত নয়।” তারা বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ যদি সাধারণ জ্ঞান ও বিচক্ষণতা প্রয়োগ করে এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করে, তবে কোনো সমস্যা হবে না। তারা আরো জানান, লন্ডনে প্রায় ৫২০টি পুলিশ হেফাজত কক্ষ রয়েছে, তাই ৫০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা চ্যালেঞ্জিং হবে। তারা উল্লেখ করেন, ডেরি ও এডিনবার্গে অনুরূপ বিক্ষোভে পুলিশ গ্রেপ্তার এড়িয়েছে।
শনিবার একই সময়ে একটি বড় প্যালেস্টাইনপন্থী মিছিল এবং অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পুলিশের উপর চাপ বাড়াবে। গত সপ্তাহে হাইকোর্ট প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের অনুমতি দেওয়ায় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস জানায়, এই ধরনের বিক্ষোভ ভবিষ্যতে নিয়মিত হবে এবং গ্রেপ্তার হওয়া এখন “সম্মানের প্রতীক” হয়ে উঠেছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















