সাইফ হাসান: ২৮ বছর কারাগারে কাটানো জাস্টিন প্লামারের হত্যা মামলার রায় বাতিল করেছে আপিল আদালত। তিনি জ্যানিস কার্টরাইট-গিলবার্টের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, কিন্তু সবসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ভুল প্রমাণ এবং অবিশ্বস্ত সাক্ষীর কারণে তার রায় বাতিল হয়। বুধবার তিনি মুক্তি পান।
১৯৯৭ সালে বেডফোর্ডশায়ারের ওয়াইল্ডেনে জ্যানিস কার্টরাইট-গিলবার্ট নামে ৩৮ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করা হয়। তার দেহ একটি জ্বলন্ত ক্যারাভানে পাওয়া যায়, যেখানে তার গলায় ছুরি ও কাঁচি বিদ্ধ ছিল এবং তাকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছিল। জাস্টিন প্লামার, যিনি তখন একজন চোর ছিলেন, এই হত্যার জন্য ১৯৯৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ডিএনএ প্রমাণ বা সাক্ষী ছিল না।
মামলাটি মূলত একটি জুতার ছাপের প্রমাণের উপর নির্ভর করেছিল। জ্যানিসের মাথায় পাওয়া একটি ছাপ প্লামারের নাইকি এয়ার স্ক্রিচ জুতার সাথে মিলে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু এই প্রমাণ দিয়েছিলেন ডেভিড লুইন নামে একজন দন্তচিকিৎসক, যিনি জুতার ছাপ বিশ্লেষণে অযোগ্য ছিলেন। তার পদ্ধতি পরে অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালে ক্রিমিনাল কেসেস রিভিউ কমিশন এই মামলাটি আপিল আদালতে পাঠায়। ২০২৩ সালে প্রথমে রায় বাতিল হলেও, পুনরায় বিচারে প্লামার আবার দোষী সাব্যস্ত হন।
দ্বিতীয় বিচারে প্রসিকিউশন প্লামারের একজন সেলমেট ক্রিস্টোফার ডানের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে। ডান, যিনি মারা গেছেন, দাবি করেছিলেন প্লামার তার কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু ডানের মানসিক রোগ এবং পুলিশের তথ্যদাতা হিসেবে তার ভূমিকা এই সাক্ষ্যকে অবিশ্বস্ত করে। বুধবার আপিল আদালত এই সাক্ষ্যকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে রায় বাতিল করে। আদালত বলেন, “ডানের সাক্ষ্য জুরির কাছ থেকে প্রত্যাহার করা উচিত ছিল।”
প্লামারের আইনজীবী আন্নালিসা মস্কার্দিনি বলেন, “জাস্টিন ২৮ বছর ধরে নিজের নির্দোষিতার জন্য লড়েছেন। তার অধ্যবসায় অবশেষে ফল দিয়েছে।” ব্যারিস্টার কেটি থর্ন বলেন, “মৃত সেলমেটের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করা অন্যায্য। এ ধরনের প্রমাণ বন্ধে আইন সংস্কার প্রয়োজন।” প্লামার কারাগারে মেঝেতে ঘুমিয়ে তার নির্দোষিতার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি ১৬ বছরের ন্যূনতম মেয়াদের চেয়ে অনেক বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন।
এই ঘটনা ব্রিটেনের বিচার ব্যবস্থায় ভুল প্রমাণের উপর নির্ভর করার ঝুঁকি তুলে ধরে। প্লামারের মুক্তি বাংলাদেশী প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, কারণ এটি ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের উদাহরণ। প্লামার এখন মুক্ত হলেও, তার আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের ভুল বিচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















