ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে পুলিশের উপর হামলা: তরুণ দোষী

91

সাইফ হাসান: ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে গত বছর দুই নারী পুলিশ কর্মকর্তার উপর হামলার দায়ে এক তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মোহাম্মদ ফাহির আমাজ নামের এই তরুণ একজন পুলিশের নাক ভেঙে দেন এবং অপরজনকে মাটিতে ফেলে দেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আমাজকে বৃহস্পতিবার জামিনের শুনানির জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।

লিভারপুল ক্রাউন কোর্টে চার সপ্তাহের বিচারের পর বুধবার মোহাম্মদ ফাহির আমাজকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০ বছর বয়সী এই তরুণ গত ২৩ জুলাই ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরের টার্মিনাল ২-এর একটি স্টারবাকসে একজন গ্রাহকের উপর হামলা করেন। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি প্রতিরোধ করেন এবং দুই নারী পুলিশ কর্মকর্তা লিডিয়া ওয়ার্ড এবং এলি কুকের উপর হামলা করেন। ওয়ার্ড জানান, “আমি ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। পুলিশে থাকাকালীন এমন সহিংসতার মুখোমুখি হইনি।”

ঘটনার সময় আমাজ একটি গাড়ি পার্কিং টিকিট মেশিনের কাছে ছিলেন। পুলিশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে ধরতে যায়। আমাজ প্রতিরোধ করলে তার ভাই মুহাম্মদ আমাদও হস্তক্ষেপ করেন। প্রসিকিউশন জানায়, তারা পুলিশের উপর “উচ্চমাত্রার সহিংসতা” প্রয়োগ করেন। তবে আমাজ ও তার ভাই দাবি করেন, তারা আত্মরক্ষা বা একে অপরের রক্ষার জন্য এমনটি করেছেন।

কোর্টে ওয়ার্ড জানান, আমাজকে গ্রেপ্তারের জন্য তারা তাকে ধরেছিলেন, কিন্তু তিনি শক্ত হয়ে প্রতিরোধ শুরু করেন। তিনি বলেন, “ঘটনা খুব দ্রুত বেড়ে যায়। আমার নাক থেকে রক্ত ঝরছিল, মুখের অবস্থা বুঝতে পারছিলাম না।” এলি কুকও আমাজের কনুইয়ের আঘাতে মাটিতে পড়ে যান। আমাজ স্টারবাকসে গ্রাহক আব্দুলকারিম ইসমাঈলের উপর হামলার জন্যও দোষী সাব্যস্ত হন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের প্রধান কনস্টেবল স্যার স্টিফেন ওয়াটসন বলেন, “দোষীর জঘন্য আচরণ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। আমাদের কর্মকর্তারা একজন নিরীহ ব্যক্তির উপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিলেন।” তবে, আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জাচারি মার্সডেনের উপর হামলার অভিযোগে জুরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। প্রসিকিউশন জানায়, এই অভিযোগে দুই ভাইয়ের পুনরায় বিচার হবে।

এই ঘটনা বাংলাদেশী প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ আমাজ ও তার ভাই রোচডেলের বাসিন্দা। এই ধরনের সহিংসতা বিমানবন্দরের মতো জনবহুল স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ ফেডারেশনের চেয়ার মাইক পিক বলেন, “এই ঘটনা পুলিশের কাজের ঝুঁকিপূর্ণ দিক তুলে ধরে।”

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian