সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে এনএইচএস দন্ত চিকিৎসায় বড় ঘাটতি। বিদেশি দন্ত চিকিৎসকরা পরীক্ষার জন্য সুযোগ না পেয়ে ম্যাকডোনাল্ডস ও ফাস্টফুড দোকানে কাজ করছেন। প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ দন্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এই সমস্যা সমাধানে জরুরি সংস্কারের দাবি উঠেছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ডেন্টাল গ্রুপস (এডিজি) এর নির্বাহী চেয়ার নিল কারমাইকেল বলেন, “এটা লজ্জার বিষয় যে দক্ষ দন্ত চিকিৎসকরা ফাস্টফুডে বার্গার তৈরি করছেন। তারা রোগীদের চিকিৎসা করতে পারতেন।” তিনি ওভারসিজ রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষা (ওআরই) সহজ করার দাবি জানান। এই পরীক্ষা পাশ না করলে বিদেশি চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্যে কাজ করতে পারেন না।
ভারত, মিশর ও আলবেনিয়ার মতো দেশ থেকে আসা ৬,০০০ দন্ত চিকিৎসক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বছরে মাত্র ৬০০ জন এই পরীক্ষা দিতে পারেন। ২০২৩-২৪ সালে ইংল্যান্ডে এনএইচএস-এ ২,৭৪৯ দন্ত চিকিৎসকের পদ শূন্য ছিল। এডিজি বলছে, এই বাধার কারণে দক্ষ চিকিৎসকদের প্রতিভা নষ্ট হচ্ছে।
মিশরের দন্ত চিকিৎসক আহমেদ বলেন, “আমার ডেন্টাল ইমপ্লান্টোলজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি আছে। কিন্তু আমি ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ করছি। ২০২২ সাল থেকে ওআরই পরীক্ষার জন্য চেষ্টা করছি।” ভারতের শোয়েব সাইয়েদ, ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও, বার্মিংহামে সাবওয়েতে স্যান্ডউইচ তৈরি করছেন। তিনি বলেন, “আমার এখন উপাধি ‘স্যান্ডউইচ আর্টিস্ট’। এটা হতাশাজনক।”
সায়েদ বিলাল বুখারা, আরেক ভারতীয় চিকিৎসক, বলেন, “পরীক্ষার সিট পাওয়া টেলর সুইফটের টিকিট পাওয়ার মতো কঠিন। আমার দুই বন্ধু হাল ছেড়ে দুবাই চলে গেছে।” নাফিল্ড ট্রাস্টের বিশেষজ্ঞ মার্ক দায়ান বলেন, “এই বাধা শুধু বিদেশি নিয়োগের ক্ষেত্রেই নয়, এনএইচএস ব্যবস্থাও দন্ত চিকিৎসকদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ। অনেকে বেসরকারি খাতে চলে যাচ্ছেন।”
স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিভাগ বলছে, তারা ৭ লাখ জরুরি দন্ত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করছে এবং দন্ত চিকিৎসকদের আকর্ষণে ‘গোল্ডেন হ্যালো’ স্কিম চালু করেছে। তবে এই সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করলে এনএইচএস-এর ঘাটতি অনেকাংশে কমবে এবং রোগীরা সহজে চিকিৎসা পাবেন।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















