ইউকে থেকে ব্রাজিলে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ পেল দুই শিশু!

107
সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এক ব্রাজিলিয়ান দম্পতির দুই শিশু সন্তানকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ১১ বছরের গিলহার্মে ও ৮ বছরের লুকা সেরানোকে ব্রাজিলে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তবে তাদের বাবা-মা যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে পরিবারটি হতাশ ও উদ্বিগ্ন।

আনা লুইজা কাব্রাল গৌভেইয়া, একজন সিনিয়র এনএইচএস নার্স, বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি হোম অফিস এমন সিদ্ধান্ত নেবে। এই চিঠি আমার সন্তানদের অপরাধী বানিয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে এসে আমি এনএইচএস-এ কাজ করছি, ট্যাক্স দিচ্ছি, সবকিছু ঠিকঠাক করেছি।” তিনি এই সিদ্ধান্তে গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন।

গিলহার্মে ও লুকা যুক্তরাজ্যে তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছে। তাদের বাবা ড. হুগো বারবোসা, এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের সিনিয়র লেকচারার, বলেন, “শিশুরা পর্তুগিজ ভাষায় পড়তে বা লিখতে পারে না। ব্রাজিলে ফিরে গেলে তাদের মানসিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। তারা ইতিমধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।” তিনি আরও বলেন, “গিলহার্মের গ্রামার স্কুলে একটি আসন নিশ্চিত হয়েছে, যা হারিয়ে যাবে।”

পরিবারটির সমস্যা শুরু হয় যখন ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে আসার কয়েক বছর পর বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সন্তানদের যৌথভাবে লালন-পালন করছেন। আনা ২০২২ সালে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা পান, আর হুগো ২০২৪ সালে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন পান। কিন্তু হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুদের থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

হোম অফিসের এক চিঠিতে বলা হয়, গিলহার্মেকে ব্রাজিলে ফিরে গিয়ে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে পরিবারের জীবনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও এটি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ বলে মনে করা হয়েছে। আনা বলেন, “এনএইচএস-এ কাজ করে আমি সবসময় গর্বিত ছিলাম। আমার নির্দোষ সন্তানদের কেন এভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে?”

এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং এর মানবিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে শিশুদের জীবন ও শিক্ষার উপর এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব গভীর। পরিবারটি এখনো হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং সমাধানের আশা করছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian